বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ডমরুধরের সিদ্ধিলাভ।
৯৩

 তাহার পর সন্ধ্যা বেলা তোমার বাসার উপরে আসিয়া এই মন্ত্রটী বলিবে,

‘জয় কৈলাসবাসিনী ত্র্যম্বকগৃহিণী ষড়াননজননী।’

 দ্বিতীয় মন্ত্রটী অতি সাবধানে স্মরণ করিয়া রাখিবে। বাসার উপর আসিয়া এই মন্ত্র পাঠ না করিলে ময়ূর তোমাকে সপ্ত দ্বীপ সাত সমুদ্র তের নদী পারে লোকালোক পর্ব্বতের ওধারে সূর্য্যের অগম্য তিমিরপূর্ণ গভীর গহ্বরে ফেলিয়া চলিয়া যাইবে।

 আমি বলিলাম,—“মন্ত্রটী অতি সহজ। কেন মনে করিয়া রাখিতে পারিব না? তবে দ্বিতীয় মন্ত্রে ঐ গুম্বজগৃহিণী কথাটা কিছু কঠিন।”

 দেবী হাসিয়া বলিলেন,—“গুম্বজগৃহিণী নহে, ত্র্যম্বকগৃহিণী।”

 আমি বলিলাম,—“এইবার আমি ভাল করিয়া স্মরণ রাখিব, গুম্বজ নহে ত্র্যম্বক।”

 দেখ লম্বোদর, এইস্থানে তোমাদের একটা কথা আমি বলিয়া রাখি। প্রতিমায় এই যে কার্তিক সকলে করে, এ এ-কেলে কার্তিক নহে, এ সে-কেলে কার্ত্তিক। লম্বা কোঁচা গুঁফো ধেড়ে কার্তিক কি বাপু! এই কি তোমাদের ভক্তি! ছি! এখনকার কার্ত্তিক ছেলে-মানুষ। মোজা ইজের কোট টুপি পরা সিংহশাবক কোলে কার্ত্তিক আমি এইরূপ দেখিয়াছিলাম। প্রতিমায়ও তাই করিয়াছি। প্রতিমা সহিত দেবী অন্তর্ধান হইলেন। আমি প্রথম, মন্ত্রটী পাঠ করিলাম,

‘জয় কৈলাসবাসিনী মহেশগৃহিণী গণেশজননী।’