পাতা:ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪৪

ডিটেক্‌টিভ পুলিস, ১ম কাণ্ড।


সমাপ্ত হইলে অবশিষ্ট পাঁচ সহস্র দিবেন। তিনি আমার নিতান্ত বন্ধু বলিয়া এইরূপ অল্প টাকায় সম্মত হইয়াছেন, নতুবা ৫০ সহস্র মুদ্রার কম এরূপ কার্য্য কখনই সম্পন্ন হইতে পারে না।”

 জমীদার মহাশয় আমার কথায় বিশ্বাস করিয়া সমস্ত টাকা দিতে সম্মত হইলেন। সেই দিবস ডাক্তার সাহেবকে দিবার নিমিত্ত আমাকে দুই সহস্র টাকা দিলেন। টাকাগুলি হস্তে পাইয়া আমি জমীদার মহাশয়ের বাড়ী পরিত্যাগ করিলাম। কিন্তু তাহার এক কপর্দ্দকও ডাক্তার সাহেবকে না দিয়া তাহার পরিবর্ত্তে সহস্র মুদ্রা গোলাপকে দিলাম, বক্রী পিতা মাতাকে দিলাম। জমীদার মহাশয়কে বুঝাইবার নিমিত্ত ঐ টাকার একখানি রসিদ লিখিলাম ও তাহাতে উক্ত ইংরাজ ডাক্তারের সহি জাল করিলাম। পরে ঐ জাল রসিদ জমীদার মহাশয়কে দিয়া কহিলাম; “ডাক্তার সাহেব টাকা পাইয়া এই রসিদ দিয়াছেন ও বক্রী তিন সহস্র টাকা চাহিয়াছেন।” রসিদ দেখিয়া তাঁহার আরও বিশ্বাস হইল, তিনি বলিলেন,—“বক্রী টাকার কতক কল্য দিব। তুমি ডাক্তার সাহেবকে বলিও, যাহাতে কার্য্য শীঘ্র সম্পন্ন করিতে পারেন, তাহার যেন বিশেষ চেষ্টা করেন।”

 পরদিন পুনরায় দুই সহস্র মুদ্রা পাইলাম। এইটাকা লইয়া আপনার স্ত্রীর নিকট রাখিয়া দিলাম ও পূর্ব্বমত জাল রসিদ লিখিয়া আনিয়া জমীদার মহাশয়কে দিলাম। তিনি বুঝিতে পারিলেন,—এ টাকাও ডাক্তার সাহেব পাইয়াছেন।

 সেইদিবস এই মর্ম্মে একখানি দরখাস্ত লিখিয়া আনিলাম