পাতা:তপতী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ο/ο শকুন্তলায় তপোবনের একটি ভাব কাব্যকলার আভাসেই আছে । সে-ই পর্য্যাপ্ত ! তাক-ছবির দ্বারা অত্যন্ত বেশি নির্দিষ্ট না হওয়াতেই দর্শকের মনে অবাধে সে আপন কাজ করতে পারে। নাট্যকাব্য দর্শকের কল্পনার উপরে দাবী রাখে, চিত্র সেই দাবীকে খাটো করে, তাতে ক্ষতি হয় দর্শকেরই। অভিনয় ব্যাপারটা বেগবান, প্রাণবান, গতিশীল ; দৃশ্যপটট। তা’র বিপরীত ; অনধিকার প্রবেশ ক’রে সচলতার মধ্যে থাকে সে মূক, মূঢ়, স্থানু ; দর্শকের চিত্তবৃষ্টিকে নিশ্চল বেড়া দিয়ে সে একান্ত সঙ্কীর্ণ ক’রে রাখে। মন যে-জায়গায় আপন আসন নেবে সেখানে একটা পটকে বসিয়ে মনকে বিদায় দেওয়ার নিয়ম যান্ত্রিক যুগে প্রচলিত হয়েচে, পূৰ্ব্বে ছিল না। আমাদের দেশে চিরপ্রচলিত যাত্রার পালা-গানে লোকের ভিড়ে স্থান সঙ্কীর্ণ হয় বটে। কিন্তু পটের ঔদ্ধত্যে মন সঙ্কীর্ণ হয় না। এই কারণেই যে-নাট্যাভিনয়ে আমার কোনো হাত থাকে সেখানে ক্ষণে ক্ষণে দৃশ্যপট ওঠানো নামানোর ছেলেমানুষকে আমি প্রশ্রয় দিইনে । কারণ বাস্তব সত্যকেও এ বিদ্রুপ করে, ভাবসত্যকেও বাধা দেয়। দ্বিতীয় সংস্করণে "তপতা" কিছু পরিবর্তিত আকারে প্রকাশিত হ’লো। ১৯শে ভাদ্র, ১৩৩৬ । শান্তিনিকেতন।