৸৶৹
হিগেন্সের জীবনের কথা পুনঃপুনঃ বলিয়াছি। ঈশ্বর কেমন করিয়া অত্যন্ত ক্লেশকর যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায়ও মানুষকে শান্তি, বিশ্রাম ও আনন্দ প্রদান করিতে পারেন, তাহার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তস্বরূপ কুমারী হিগেন্সের উল্লেখ করিয়াছি। আমার মনে হয়, এই জীবনী পাঠে মানব-চিত্ত বিস্ময়ে ও কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হইয়া উঠিবে, এবং যাহারা মনে করে যে, জগতের যত দুঃখ বেদনার উত্তাল তরঙ্গ তাহাদের উপর দিয়াই প্রবাহিত হইতেছে, তাহারাও ইহা পাঠ করিয়া প্রাণে সান্ত্বনা লাভ করিতে সমর্থ হইবে।
(স্বাক্ষর) ডান্কেন এস ম্যাক্ ইয়াক্রেণ
সেণ্ট এণ্ড্রুস্ ম্যান্স্, কার্লটন, মেল্বোর্ণ
ডিসেম্বর ১৫, ১৮৯৮
এই গ্রন্থকর্ত্রী “রেইনাউড্” রোগে অত্যন্ত কষ্ট পাইয়াছেন, এবং এখনও পাইতেছেন। ১৮৬২ খ্রীষ্টাব্দে ডাঃ রেইনাউড্ সর্ব্ব প্রথম এই ব্যারামের বিবরণ প্রকাশ করেন, এবং সেই সময় হইতে চিকিৎসাজগতে ইহা তাঁহার নামে সুপরিচিত হইয়াছে। তিনি বলেন যে, এই ব্যাধি এক প্রকার নূতন ধরণের শুষ্ক gangrene (গলন পচন)। রক্তনালীর প্রসারণ ও সংকোচনের প্রতিবন্ধকতাই ইহার উৎপত্তির কারণ! সাধারণতঃ রক্তসঞ্চালনের অন্ত্য সীমায়, পায়ের কি হাতের আঙুলেই, সর্ব্বপ্রথম এই ব্যাধি দেখা দেয়, তৎপরে ক্রমে ক্রমে সেই অংশটা অবশ হইয়া পড়ে। ব্যারাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেদনা ও অন্যান্য উপসর্গ ও বর্ত্তমান থাকে। এই ব্যাধির সমধিক বৃদ্ধিতে দেহ-যন্ত্রের সমস্ত সূক্ষ্ম উপাদানগুলি (tissues) বিনষ্ট হয়; কাজেই রুগ্ন অংশ দেহ হইতে