প্রথম ভাগেই আমার দক্ষিণ হস্তে এই ব্যাধির সূত্রপাত হয়। তাহার পর হইতে কখনও বেদনার হাত হইতে আমি আর নিষ্কৃতি পাই নাই। আমার সমস্ত দক্ষিণ হস্তে—হাতের কব্জির উপর পর্য্যন্ত—সাদা সাদা তাল বাঁধিতে লাগিল, এবং তাহাতে অসহ্য বেদনা হইত। আমি একটুও ঘুমাইতে পারিতাম না, সকল সময়ই একটা অবসাদের ভাব থাকিত, ক্ষুধা একেবারেই ছিল না। অবশেষে আমার শরীর সম্পূর্ণরূপে ভাঙ্গিয়া পড়িল। ১৮৭২ সন পর্য্যন্ত নানাবিধ মুষ্টিযোগ প্রয়োগে আমার চিকিৎসা চলিতে লাগিল, কিন্তু তাহাতে আমার কোন উপকার হইল না, বরং শরীর আরও খারাপ হইল।
আমি বার বার অতীতের কথা স্মরণ করি এবং ভাবি, আমার কি পরম সৌভাগ্য যে আমি তখন জানিতে পারি নাই, আমার দুঃখের জীবন মাত্র আরম্ভ হইল। আমার ভবিষ্যতের কথা জানিতে পারিলে, চিত্ত নিরাশায় পূর্ণ হইয়া উঠিত; কারণ, তখন পর্য্যন্ত আমি পরিত্রাতাকে মহান্ পুরুষ বলিয়াই ভাবিতাম, কিন্তু তিনি যে আমার প্রেমিক পরিত্রাতা, বন্ধু, এবং শান্তিদাতা তাহা জানিতাম না। আমার অজ্ঞতাসত্ত্বেও তিনি আমাকে ভালবাসিতেন, এবং পরম যত্নে জীবনের অজানা পথে আমাকে লইয়া যাইতেছিলেন।
আমি সর্ব্বদাই লিখাপড়া করিতে—গদ্য পদ্য নকল