প্রাণে দারুণ আঘাত লাগিল। যিনি আমার দেবীকে এত শীঘ্র পত্নীত্বে বরণ করিবেন, তাঁহার বিরুদ্ধে আমার মনটা তিক্ত হইয়া উঠিল। (ইহা হইতেই প্রমাণিত হয় যে, তিনি এখনও আমার কত প্রিয়, এবং আমি তাহা হইতে বিযুক্ত হইতে অনিচ্ছুক)। তাঁহা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া আমি কি করিব? বিষণ্ণ চিত্তে, ক্লান্ত দেহে, দৃশ্যতঃ সমস্ত আলোক হইতে যেন বঞ্চিত ও হাতের বেদনায় ক্লিষ্ট হইয়া, ধীরে ধীরে আমি যখন বাড়ী ফিরিতেছিলাম, তখন অপর একজন শিক্ষয়িত্রী পশ্চাৎ হইতে আসিয়া অগ্রসর হইয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার কি হইয়াছে? আমি তাঁহাকে সকল কথা বলিলাম। তিনি সস্নেহে আমার সঙ্গে আলাপ করিতে করিতে বলিলেন, “আমি আশা করি, এই পরীক্ষা তোমার আশীর্ব্বাদরূপে পরিণত হইবে, তুমি এই জন্য প্রার্থনা কর’। আমি বুঝিতে পারিলাম না এমন পরীক্ষা কিরূপে আশীর্ব্বাদে পরিণত হইবে, কিন্তু আমি যীশুকে আমার প্রার্থনা জানাইলাম, তিনি আমাকে সাহায্য করিলেন, এবং দেবীর বিচ্ছেদের জন্য আমাকে প্রস্তুত করিলেন। আমি তাঁহাকে পূর্ব্বের মতনই ভালবাসিতে লাগিলাম, কিন্তু তাহার প্রকৃতি একটু পরিবর্ত্তিত হইল। পরের রবিবার আমি শান্ত ভাবে তাঁহার নিকট হইতে বিদায় লইতে সমর্থ হইলাম, এবং আমি আমার প্রেমাস্পদ পরিত্রাতাকে কৃতজ্ঞতা জানাইলাম যে,
পাতা:তবুও আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করিব - হানা রোসেলি হিগেন্স - মথুরানাথ নন্দী (১৯৩৯).pdf/২৪
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
তবুও আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করিব