বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:তবুও আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করিব - হানা রোসেলি হিগেন্স - মথুরানাথ নন্দী (১৯৩৯).pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
তবুও আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করিব

ভার দিলেন। তিনি আমাকে দেখিয়া বলিলেন, আমার যখন আরোগ্যলাভের আশা নাই, তখন আমার ভার তাঁহার না নেওয়াই ভাল। ইহাতে প্রমাণিত হইয়াছিল যে, ‘ঈশ্বরের পথই সর্ব্বোৎকৃষ্ট’। তিনি আমাকে দুঃখ যাতনার অগ্নি-পরীক্ষার ভিতর দিয়া এক অজানা পথে লইয়া চলিয়াছিলেন। এই সময় পথটা আমার পক্ষে মসৃণ ছিল না; পরন্তু, বন্ধুর ও ঝটিকাসঙ্কুলই ছিল।

 তিনি আমাকে ডাক্তার ‘জি’র নিকট যাইতে বলিলেন। তিনি কিছুকাল আমার চিকিৎসার পর বলিলেন, আমার আর বেশী দিন বাঁচিবার সম্ভাবনা নাই। ‘ভগবৎ কৃপাই আমার পক্ষে যথেষ্ট ছিল’। তাহার পর আমি ডাক্তার ‘ডি’র নিকট গিয়াছিলাম। তিনি আমার দক্ষিণ হস্ত ও বাহুর চামড়া তুলিয়া ফেলিলেন। ইহাতে আমার ভীষণ যন্ত্রণা হইল, কিন্তু তিনি বলিলেন, কয়েক দিন পরেই ইহা সম্পূর্ণরূপে সারিয়া যাইবে, এবং বেদনা লাঘব করিবার জন্য তিনি একটা আরক দিবেন; কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার হাতের অবস্থা আরও খারাপ হইল। সমস্ত হাতে ঘা হইল, এবং দুইদিনের মধ্যে তাহা আমার সমস্ত স্কন্ধে বিস্তৃত হইয়া পড়িল। তখন তিনি বলিলেন, হাতখানা কাটিয়া ফেলিতে হইবে, তাহা না হইলে আমি এক সপ্তাহও বাঁচিব না। যীশু আমার অসহ্য দুঃখের কথা জানিতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্ট। আমার হিক্কা চলিতে লাগিল।