তাহাতে আমি এত দুর্ব্বল হইয়া পড়িলাম যে, আমাকে একখানা দোদুল্যমান চৌকীতে দিনরাত বসিয়া থাকিতে হইত, বিছানায় শুইতে পারিতাম না।
ইহার পূর্ব্বে আমি যীশুকে কখনও এত কাছে পাই নাই। মনে হইত, আমি তাঁহার উপর ভর দিয়া অবস্থিতি করিতেছি, আর তিনি আমার মাথাটি কোলে রাখিয়াছেন। তাহা না হইলে, আমি এই যন্ত্রণা সহ্য করিতে পারিতাম না। ইহা পঙ্গুর কল্পনা নহে!
আমি আরও ৬ জন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করিয়াছিলাম। ডাক্তার ‘এস্’ তিনজনকে ডাকিয়া পাঠাইয়াছিলেন। তিনি তখন পর্যটক বক্তারূপে মেল্বোর্ণে উপস্থিত ছিলেন। একজন বলিলেন, আমি দুই সপ্তাহ বাঁচিতে পারি; অন্যেরা বলিলেন, যদি আমার বাহুখানা তখনই কাটিয়া না ফেলা হয়, তবে ৭৮ দিন মাত্র বাঁচিব। আমি এইরূপ চিন্তা প্রাণে পোষণ করিতে না পারিয়া বলিলাম, আমার বরং মরাই ভাল। (ইহা ১৮৮৬ সালের আগষ্ট মাসের কথা)। তাহার পর একটা গাড়ীতে করিয়। আমাকে ডাক্তার ‘আর’এর নিকট লইয়া যাওয়া হইয়াছিল। তিনি বহু বৎসর আমার অকৃত্রিম বন্ধু প্রতিপন্ন হইয়াছিলেন। তিনি আমাকে আরোগ্যলাভের অতি সামান্য আশাই দিলেন, এবং বলিলেন, হাতখানা বাঁচাইবার কোনই আশা নাই, তবে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া