হইয়াছিলাম। ভীষণ যন্ত্রণার হস্ত হইতে মুক্ত হইয়া আমি আমার স্বগৃহে চলিয়া যাইব মনে করিয়া আমার খুব আনন্দ হইয়াছিল। আমি ইহাকে মৃত্যু বলিয়া ভাবি নাই। ২৩শে ফেব্রুয়ারী প্রাতে, ডাক্তার আমার কামরায় আসিলেন, এবং বিদায়-সম্ভাষণ জানাইয়া বলিলেন, তিনি দুপ্রহরে ফিরিয়া আমাকে দেখিতে পাইবেন বলিয়া আশা করেন না। আমি তাঁহাকে কিছু বলিতে পারিলাম না; শুধু একটু হাসিয়াছিলাম। তিনি অত্যন্ত বিষণ্ণবদনে আমাকে বলিলেন, ‘সত্যই কি তুমি আনন্দিত হইয়াছ’? বাস্তবিকই আমি বড় আনন্দিত হইয়াছিলাম। ডাক্তার কি একটা জিনিস লইতে ভুলিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া, ঘণ্টাখানেক পরেই ফিরিয়া আসিলেন। তিনি উপরে আমাকে দেখিতে গেলেন; তখন তাঁহাকে বলা হইল যে, আমার আসন্নকাল সমুপস্থিত। (আমার সম্পূর্ণ জ্ঞান ছিল, এবং তাহারা কি বলিতেছিল, তাহা শুনিতেছিলাম।) তাহারা যখন আমার দিকে তাকাইতেছিল, তখন ডাক্তার বলিলেন, ‘আমি একবার tubeটা (নল) ব্যবহার করিয়া দেখিব। ইহাতে হয়ত তাহাকে বাঁচান যাইতে পারিবে’। অবস্থা অত্যস্ত খারাপ হইলেও, তাহা করা হইল। পরদিন সকালে আমি একটু ভাল বোধ করিলাম; কিন্তু তখনও বিপদ কাটিয়া যায় নাই বার বার নল ব্যবহার করাতে ক্রমে আমার অবস্থা একটু ভাল হইল।
পাতা:তবুও আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করিব - হানা রোসেলি হিগেন্স - মথুরানাথ নন্দী (১৯৩৯).pdf/৩৩
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দক্ষিণ হস্তের অপসারণ
২১