আমি পানাহার করিতে পারি নাই; এমন কি, ঔষধ পর্যন্ত সেবন করিতে পারি নাই,—অনাহারে মৃতপ্রায় হইয়া পড়িয়াছিলাম। চিকিৎসকেরা আসিয়া দেখিয়া যাইতেন। কিন্তু তাঁহারা বুঝিতে পারিতেছিলেন না যে, এই অবস্থায় আমি কেমন করিয়া বাঁচিয়া রহিয়াছি। তাঁহারা সকলেই ভাবিলেন, ইহা একটি অলৌকিক ঘটনা; যেহেতু, কোন মানবীয় শক্তি আমাকে জীবিত রাখিতেছে না, পরন্তু ‘ঈশ্বরের শক্তিতেই জীবন রক্ষিত হইতেছে’। তিনিই আমার মহান্ চিকিৎসক—দয়াল যীশু। আমি এতটা সারিয়া উঠিলাম যে, আমি আবার বেড়াইতে সমর্থ হইয়াছিলাম, এবং সময় সময় বাহিরে যাইতাম।
পথে চলিতে চলিতে কেহ আমাকে থামাইয়া বলিত, ‘আমি শুনিয়াছিলাম যে তোমার মৃত্যু হইয়াছে’: কেহ বা বলিত, ‘আমার বিশ্বাস হয় না যে, তুমিই এই”।
১৮৮৭ সনে আমার অবস্থা খুব খারাপ হইয়াছিল। বাহুর ক্ষতস্থান পচিতে আরম্ভ করিল, এবং আমাকে বাধ্য হইয়। জুলাই মাসে কনুইর নীচ পর্যন্ত হাতখানা ডাক্তার ‘আর’ দ্বারা কাটাইয়া ফেলিতে হইয়াছিল। ডাক্তার ‘জে’ তখন ক্লোরোফরম প্রয়োগ করিয়াছিলেন। ডাক্তার ম্যাক্ ফিরিয়াছেন; কিন্তু তখনও তিনি খুব অসুস্থ ছিলেন, এবং পারিলেই আমাকে দেখিয়া যাইতেন।
আমার বাহুখানা হারাইতে আমি সম্পূর্ণ ইচ্ছুক,