এমন কি কৃতজ্ঞ ছিলাম, এবং বলিতে পারিতেছিলাম, ‘পিতা, এইরূপই হউক’।
আমার বাহুখানা কাটিয়া ফেলিবার ঠিক ছয় সপ্তাহ পরে, আগষ্ট মাসে, আমার বাম পায়েও এই ব্যারাম দেখা দিল। ইহাতে আমার মনে ভীষণ আঘাত লাগিল; কারণ, আমার মনে হইল যে, পা খানাও হারাইতে হইবে; যেহেতু, এই ব্যাধির বিস্তৃতি খুব দ্রুত চলিতেছিল। আমি প্রার্থনা করিলাম, যেন ধৈর্য্যের সহিত স্থির হইয়া এই নিদারুণ যন্ত্রণা সহ্য করিতে পারি; এমন কি, একটু আর্ত্তনাদও না করি। ঈশ্বর আমার প্রার্থনা সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ করিয়াছিলেন। আমি শয্যাশায়ী হইয়া কয়েক মাস এমন একটা কামরায় আবদ্ধ ছিলাম, যেখানে চিত্তবিনোদনের কোন ব্যবস্থা ছিল না। আমি শুধু একটা ইটের উচ্চ দেয়াল দেখিতে পাইতাম। সমস্ত পর্দ্দাটা তুলিয়া দিলে, সামান্য একটু আকাশও দেখিতে পাইতাম। অত্যধিক গরম বলিয়া, জানালায় একটা ভিজা কম্বল ও ঝুলাইয়া রাখা হইত। এমন পরিপূর্ণ ভাবে আমার প্রার্থনা পূর্ণ হইয়াছিল যে, জাগ্রত অবস্থায় কখনও আমি আর্ত্তনাদ করিতাম না। প্রাণ সন্তোষে ভরপূর ছিল; এমন কি, আবশ্যক হইলে পা খানা হারাইতেও আমি ইচ্ছুক ছিলাম। এরূপ অবস্থা আমার পক্ষে বিস্ময়কর। ঈশ্বর নিশ্চয়ই দয়াল।