প্রকাশার্থ আমি কিছু লিখিয়াও ছিলাম! কেহ কেহ আমাকে বলিল, তুমি ত তাহাদিগকে জান না’! আমি জানি না সত্য, কিন্তু তাহারা ত রোগে কষ্ট পাইতেছে! ইহাই তাহাদিগের প্রতি আমার ভালবাসা দেখাইবার যথেষ্ট কারণ। আমরা সকলেই (বিশেষতঃ পঙ্গুরা) ভালবাসা এবং সমবেদনার কাঙ্গাল, এবং আমার তাহা দিবারও শক্তি আছে। পক্ষান্তরে, ইহাতে আমার এই উপকারও হয় যে, অন্যের কথা ভাবিতে যাইয়া আমার নিজের দুঃখ বিপদের কথা মনে থাকে না, এবং নিজ জীবনে প্রাপ্ত করুণার স্মৃতি আমাকে অধিকতর কৃতজ্ঞ করে।
অত্যধিক যন্ত্রণায় অনেক সময় যখন আমার চক্ষুতে নিদ্রা আসিত না, এবং কি প্রকারে আমি তাহা সহ্য করিব ভাবিয়া কুল পাইতাম না, এমতাবস্থায় আমার চিত্ত আমার শয্যায় (২৪ নম্বর শয্যা) অবস্থিত রোগিণীর নিকট ছুটিয়া যাইত। আমি আশ্চর্যান্বিত হইয়া ভাবিতাম, রোগিণীটি যুবতী কি বৃদ্ধা? তাহার কি খুব যন্ত্রণা হইতেছে? তাহার আরোগ্যলাভের কি সম্ভাবনা আছে? তিনি কি যীশুকে প্রেমাস্পদ বন্ধু ও শান্তিদাতারূপে জানেন? ইত্যাদি। এই সকল চিন্তা করিতে করিতে আমার প্রাণ তাহার জন্য প্রার্থনায় পূর্ণ হইয়া উঠিত। আমি নিজের যন্ত্রণা শান্ত ভাবে বহন করিতেছি, কিন্তু আমার নিজের বোঝা কত হাল্কা মনে হয়, যখন আমি অপরের দুঃখের কথা স্মরণ