পাতা:তারাচরিত.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
তারাচরিত।

সাক্ষাৎ কন্দৰ্প বলিয়া সকলেরই মনে হইত। তাহার আজানু-লম্বিত বাহু যুগল, আকর্ণ চক্ষু,উন্নত ললাট, ও ক্ষীণ কটি দেখিলেই তাঁহাকে একজন অসামান্য বীর পুরুষ বলিয়া মনে হইত। সুরতন যুদ্ধ বিদ্যায় এমনি নিপুণ ছিলেন যে কেহই তাঁহার সহিত সম্মুখ সমরে অগ্রসর হইতে পারিত না। কিন্তু ভাগ্যের কথা কে বলিতে পারে? ভাগ্য যে কখন কাহার উপর প্রসন্ন ও কখন কাহার উপর অপ্রসন্ন তাহা বুঝিয়া উঠা মনুষ্যের সাধ্য নহে। তাহা না হইলে, পুরাকালে কত রাজাই প্রবল ছিলেন তাহা বলিয়া উঠা যায় না; এখন চতুর্দ্দিকে দৃষ্টিপাত করিলে তাঁহাদের কাহাকেও দেখিতে পাইবে না। প্রবল প্রতাপান্বিত পরাক্রমশালী বীৰ্য্যবান রাজা সকল কোথায় গেলেন। রে ভাগ্য তোমাকে ধন্য! তুমি যে কখন কাহার উপর ধাবিত হইতেছ বুঝিতে পারিতেছি না। তুমি যখন যাহার অনুকূল থাক তখন সেই ধন্য। তাহা না হইলে রাজা যুধিষ্টির কেন বনগামী হইলেন। তুমি যদি তাঁহাদের উপর সুপ্রসন্ন থাকিতে তাহা হইলে তাঁহারা কখন বনগামী হইতেন না, অনেক দুর্লঙ্ঘ্য কষ্টও ভোগ করিতেন না। যখন তুমি সদয় হইলে তখন তাঁহাদের আবার সেই হস্তিনায় একাধিপত্য স্থাপন করাইলে। তোমাকে ধন্য! তোমারই নিৰ্দ্দয় দৃষ্টিপাতে সুরতনের রাজলক্ষ্মী তাঁহাকে পরিত্যাগ করিলেন।

 লিল্লা নামক দুৰ্দ্ধান্ত আফগান সসৈন্যে আগমন করিয়া টোডা টঙ্ক অধিকার করিয়া তথায় একাধিপত্য স্থাপন করিল।