পাতা:তারাচরিত.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩২
তারাচরিত।

স্কৃত হইল। সভা রচনা হইতে লাগিল। নানা দেশীয় রাজা সকল সভায় উপস্থিত হইলেন। দেখিয়া রাও সুরতন্ মহাবীর পৃথ্বীরাজকে সভায় আনয়ন করিলেন। যখন সূর্য্যকুল প্রদীপ পৃথ্বীরাজ আসিয়া সভায় অধিবেশন করিলেন তখন সভা কি জনমনোহারিণী রূপই ধারণ করিয়াছিল। এদিকে সভাস্থ সকলেই রাজকুমারী তারার বাহিরে আগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন।

 মালতী বলিলেন সখি এস এস একবার তোমাকে মনের সাধ মিটাইয়া সাজাইয়া দিব। এই বলিয়া মালতী তাহার হস্ত ধারণ করিয়া তথা হইতে উত্তোলন করিলেন এবং মনের সাধে তারাকে সাজাইতে লাগিলেন। প্রথমে মস্তকের বীর বেশোচিত কিরীটি খুলিয়া অপূৰ্ব্ব বেণী বিনাইয়া দিলেন। তাহার পর যেখানে যাহা সাজিল তাহা পরাইয়া দিলেন। পরিশেষে এক মহামূল্য পট্ট বস্ত্র পরিধান করাইয়া সজল লোচনে বলিতে লাগিলেন, দেখ দেখ পুরবাসিনীগণ অদ্য আমাদের কি সুখের দিন; এরূপ জগজ্জন মনোহারিণী রাজকুমারীর অদ্য বিবাহ হইবে, আমাদের কি আনন্দের দিন উপস্থিত হইল; বলিতে পারি না সখী আজ কি নয়ন রঞ্জন রূপই ধারণ করিয়াছেন, দেখিলে মনে হয়, যেন নীল নভোমণ্ডলে সৌদামিনী খেলিতেছে। এই বলিয়া তিনি তারার হস্ত ধারণ করিয়া সভ্যস্থলে দণ্ডায়মান হইলেন। দেখিয়া সকলে একবাক্য হইয়া বলিতে লাগিল এ রূপ কল্পিত না প্রকৃত। এমন অলৌকিক রূপ রাশি আমরা কখন দর্শন করি নাই।