পাতা:তারাচরিত.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫
তারাচরিত।

উতলা হইতেছ কেন? তুমি আমার নিকট কি অপরাধ করিবে বল? আমি হইলাম নীচ নারী জাতি, তুমি হইলে উত্তম পুরুষ। আমার আর কিছু ভাবনা হইতেছে না। বলিতে কি নাথ আমার হর্ষে বিষাদ উপস্থিত হইতেছে। বিষাদ এই যে, আমি আমার পিতাকে ছাড়িয়া দীর্ঘকাল কখন কোথাও যাই নাই। কেমন করিয়া তার বিরহ সহ্য করিব, এই ভাবিয়া আমার মন এত উৎকণ্ঠিত হইতেছে। পৃথ্বীরাজ কহিলেন তোমার ভাবনা কি? তিনি ত তোমার মত কোমলান্তঃকরণ স্ত্রী নহেন যে, তোমার মত অধীর হইবেন। পৃথ্বীরাজ তারাকে এইরূপ বুঝাইয়া কহিলেন, এখন আর বিলম্বের প্রয়োজন নাই, চল যাত্রার সকলি প্রস্তুত প্রায়।

 এদিকে রাজা সুরতন্‌ কন্যার যাইবার উপযোগী সকল সামগ্রীই আয়োজন করিয়া দিলেন এবং যানাদি সকল সাজান হইল দেখিয়া মালতী তাড়া তাড়ি তারার মন্দিরে আসিয়া দেখিলেন সখী সজল নয়নে করতলে কপোল বিন্যস্ত করিয়া অশ্রুবর্ষণ করিতেছেন। দেখিয়া মালতী জিজ্ঞাসা করিলেন সখি অদ্য এ ভাবাপন্ন দেখিতেছি কেন? শুনিয়া তারা হূ হূ করিয়া কাঁদিয়া মালতীর গলদেশে তার সুধাকর বিনিন্দিত বদনমণ্ডল রাখিয়া বলিলেন, প্রাণ প্রতিমে অদ্য আমি তোমাদিগকে ছাড়িয়া চলিলাম, সখি আমাকে জন্মের মতন বিদায় দাও, আর অদ্যাবধি আমার নিমিত্ত তোমাকে কষ্ট করিতে হইবে না। প্রিয়সখি তোমার স্নেহ বিগলিত বাক্য সকল