পাতা:তারাচরিত.pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২
তারাচরিত।

অপূৰ্ব্ব মধুর নিলীমা কি আশ্চর্য্য মানাইতেছে। আবার করবীর কোলে অপরাজিতাকে দেখিয়া চপলার যেন আর হাসি ধরিতেছে না বোধ হইতেছে। এই বলিয়া পৃথ্বীরাজ তারার চিবুক ধরিয়া কহিলেন অয়ি মুগ্ধে তুমি কি জাননা যে যেমন পাত্র তার উপযুক্ত পাত্ৰী হইলে কি উত্তমই হয়। তারা ভাবে গদগদ হইয়া বলিলেন, দেখ দেখ নরেশ্বর ঐ চম্পকের আর ঝুনুকালতার কি অনিৰ্ব্বচনীয় শোভাই হইয়াছে। আবার দেখ তরুলতা কেমন নিজ ভুজযুগ দ্বারা সহকারকে বেষ্টন করিয়া বহিয়াছে। দেখিলে বোধ হয় যেন, তরুলতা বিচ্ছেদের আশঙ্কায় শত বাহু বেষ্টনে পতির সৰ্ব্বাঙ্গ আবদ্ধ করিয়া রহিয়াছে। তরুর পতিনিষ্ঠা দেখিয়া আমার মনে হইতেছে যে আমি তোমাকে চিরকাল বক্ষস্থলে বাঁধিয়া রাখি, আর যেন আমাদিগের বিচ্ছেদ না হয়। এই কথা শুনিয়া পৃথ্বীরাজ তারার কোমল করতল আপনার বক্ষস্থলে স্থাপিত করিয়া বলিলেন প্রণয়িনি যেমন দেবাদিদেব মহাদেব বিশ্ব জননীর পাদপদ্ম বক্ষস্থলে স্থাপন করিয়াছিলেন আমিও তেমনি অদ্যাবধি তোমাকে আমার হৃদয় দান করিলাম। এই বলিতে বলিতে পৃথ্বীরাজ তারাকে বক্ষস্থলে ধারণ করিলেন।

 এইরূপে তাঁহারা কথোপকথন করিয়া চিরদিনের পিপাসিত মন চরিতার্থ করিতেছেন; উভয়ে উভয়ের মুখচন্দ্রিমা নিরীক্ষণে অপার আনন্দে সন্তরণ করিতেছেন, এবং, কমলমেরুর শোভা দেখিতেছেন। এবং কতই কি ভাবিতে