পাতা:তারাচরিত.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫০
তারাচরিত।

হৃদয় ব্যক্তিরও হৃদয় বিগলিত হয়; আমি কি কঠিন যখন সেই মৃগনয়নার গণ্ডস্থল দিয়া অনর্গল অশ্রুধারা বহিতে লাগিল তখন সেই সব বারি যেন অগ্নির আকার ধরিয়া ঘৃতের ন্যায় আমার হৃদয়ে আহুতি প্রদান করিতে লাগিল; আমাকে সেই চারুহাসিনী যে কি মনেই করিয়াছেন তাহ কি বলিব। এখন আমি কেমন করিয়া তাহার নিকট দণ্ডায়মান হইব, এই ভাবিয়া আমার লজ্জা বোধ হইতেছে। আবার পরক্ষণেই ভাবিলেন আমি এখন প্রিয়ার নিকট অপরাধ স্বীকার করিব। এইরূপ ভাবিতে ভাবিতে কমল মেরু তাহার নয়ন গোচর হইল। তখন তিনি আহ্লাদে গদগদ হইলেন। প্রিয়া সন্দর্শন লালসায় তাঁহার মন একেবারে অধীর ভাব অবলম্বন করিল। কিঞ্চিৎ শ্রম বোধ হওয়ায় অশ্ব পৃষ্ঠ হইতে প্রভুরাও প্রদত্ত সেই মাজুম গ্রহণ করিয়া সেবন করিলেন। সেবন করিবার অনতিকাল পরেই তাহার শরীর ক্রমশ অবশ হইতে লাগিল।

 ভবানী মামাদেবীর মন্দিরের সম্মুখীন হইয়া পৃথ্বীরাজ আর চলিতে পারিলেন না। তখন তিনি হঠাৎ আপনাকে ঈদৃশ ভাবাপন্ন দেখিয়া আশ্চৰ্য্যাম্বিত হইলেন। পরক্ষণেই তাহার সংশয়ের অপনোদন হইল। তাহার মনে পড়িল যে মাজুম খাইয়া তাহার শরীর এই রূপ হইয়াছে। তাহার পর তিনি সেই মাজুম পরীক্ষা করিয়া দেখিলেন যে তাহাতে কালকূট মিশ্রিত আছে। দেখিয়া তিনি নৈরাশ্য সমুদ্রে জীবনের আশা একেবারে নিক্ষেপ করিলেন এবং