পাতা:তারাচরিত.pdf/৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫২
তারাচরিত।

উন্নতাত্মা মহাপুরুষ মানবলীলা সম্বরণ করিলেন। তারা আসিয়া দেখিলেন যে তাঁর জীবন সৰ্ব্বস্ব ইহলোক পরিত্যাগ করিয়া গমন করিয়াছেন। দেখিবামাত্র তিনি চীৎকার করিয়া পৃথ্বীরাজের চরণোপান্তে পড়িয়া গেলেন এবং পৃথ্বীরাজের মৃতদেহ বক্ষঃস্থলে ধারণ করিয়া বিলাপ করিতে লাগিলেন।

 পৃথ্বীরাজের সহিত একটী বাহক ছিল সে তারাকে উঠাইল। চেতনা পাইয়া তারা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন হে অনুচর আমার . প্রাণ সৰ্ব্বস্ব কি বলিয়া ইহলোক পরিত্যাগ করিলেন? শুনিয়া সে বলিল মহারাজ এই বলিয়া নয়নতারা মুদ্রিত করিলেন যে আমার তারা কই তারা কই তারা কই। তারা এই কথা শুনিবামাত্র আর থাকিতে পারিলেন না, চীৎকার করিয়া বলিয়া উঠিলেন, নাথ উঠ উঠ তোমার তারা আসিয়াছে, একবার নয়ন উন্মীলন করিয়া দেখ যে তোমার আদরের তারার কি গতি হইতেছে। কেন উত্তর দাও না, আমার অসিতে বিলম্ব দেখিয়া কি আমার উপর রাগ করিয়াছ? প্রাণবল্লভ কত শত গুরুতর অপরাধ ক্ষমা করিয়াছ, আজ এ তুচ্ছ অপরাধে আমাকে ক্ষমা করিতে সাহসী হইলে না! নাথ আমি প্রাণ দান করিলেও কি এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত নাই? প্রাণ সখা তুমি আমাকে ত্যজিয়া কোথায় চলিলে? আর কি এ জন্মে তোমাকে দেখিতে পাইব না? মনের দুঃখে যে বুক ফাটিয়া যাইতেছে! আমাকে এই অসীম যাতনা পারাবারে ফেলিয়া যাইতে কি