পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমাকে যুবরাজী সঙ বানিয়েছে। আমার এই রাজসাজ ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। ঐ-যে ফসলখেতে ওদের চাষ করতে দেখি, আর ভাবি পূর্বপুরুষের পুণ্যে ওরা জন্মেছে চাষী হয়ে । সদাগর। আর, ওরা তোমার কথা কী ভাবে সে ওদের জিজ্ঞাসা করে দেখো দেখি । রাজপুত্র, তুমি কী-সব বাজে কথা বলছ— মনের আসল কথাটা লুকিয়েছ । ওগো পত্ৰলেখা, আমাদের রাজপুত্রের গোপন কথাটি হয়তো তুমিই আন্দাজ করতে পারবে, একবার সুধিয়ে দেখে-না । পত্ৰলেখার প্রবেশ গান পত্ৰলেখা । গোপন কথাটি রবে না গোপনে, উঠিল ফুটিয়া নীরব নয়নে— রাজপুত্র । না না না, রবে না গোপনে । পত্ৰলেখা । বিভল হাসিতে বাজিল বঁাশিতে, ফুরিল অধরে নিভৃত স্বপনে— রাজপুত্র । না না না, রবে না গোপনে । পত্ৰলেখা । মধুপ গুঞ্জরিল, । মধুর বেদনায় আলোক-পিয়াসি অশোক মুঞ্জরিল। হৃদয়শতদল করিছে টলমল অরুণ প্রভাতে করুণ তপনে – রাজপুত্র । না না না, রবে না গোপনে ॥ রাজপুত্র । আছে আমার গোপন কথা, সে কথাটা গোপন রয়েছে দূরের আকাশে । সমুদ্রের ধারে বসে থাকি পশ্চিম দিগস্তের দিকে চেয়ে । সেইখানে আমার অদৃষ্ট যা যক্ষের ধনের মতো গোপন ক’রে রেখেছে যাব তারই সন্ধানে। } }