পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মঞ্জরিত লবঙ্গলতায় চঞ্চলিত এলোকেশে ॥ সদাগর। রাজপুত্র, তোমার গানের স্বরে কথাটা শোনাচ্ছে ভালো । কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এ দেশে যৌবনের নবীন রূপ দেখলে কোথায় । চারি দিকটা তো একবার ঘুরে এসেছি। দেখে মনে হল, যেন ছুতোরের তৈরি কাঠের কুঞ্জবন । দেখলুম, ওরা চৌকো চৌকো কেঠো চালে চলেছে, বুকে পিঠে চ্যাপটা। পা ফেলছে খিটুখুটু খিটুখুটু শব্দে, বোধ করি চৌকুনি নুপুর পরেছে পায়ে, তৈরি সেটা তেঁতুলকাঠে । এই মরা দেশকে কি বলে নতুন দেশ । রাজপুত্র। এর থেকেই বুঝবে, জিনিসটা সত্যি নয়, এটা বানানো, এটা উপর থেকে চাপানো, এদের দেশের পণ্ডিতদের হাতে-গড়া খোলস । আমরা এসেছি কী করতে— খসিয়ে দেব। ভিতর থেকে প্রাণের কাচা রূপ যখন বেরিয়ে পড়বে, আশ্চর্য করে দেবে । সদাগর। আমরা সদাগর মানুষ, যা পষ্ট দেখি তার থেকেই দর যাচাই করি । আর, যা দেখতে পাও না তারই উপর তোমাদের বিশ্বাস । আচ্ছা, দেখা যাক, ছাইয়ের মধ্যে থেকে আগুন বেরোয় কি না । আমার তো মনে হয় ফু দিতে দিতে দম ফুরিয়ে যাবে। ঐ দেখো-না, এই দিকেই আসছে— এ যেন মরা দেহে ভূতের নৃত্য। রাজপুত্র। একটু সরে দাড়ানো যাক। দেখি-না কাণ্ডটা কী । তাসের দলের প্রবেশ । তাসের কাওয়াজ गंiन তাসের দল । তোলোন নামোন পিছন সামন । বায়ে ডাইনে চাই নে, চাই নে । বোসোন ওঠোন ছড়ান গুটোন । উলটো-পালট ঘূর্ণি চালটা— বাস । বাস । বাস । ৰ ১২৩ > *