পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


টেঙ্কানী। তা সত্যি কথা বলেছি, দোষ হয়েছে কী । ঐ-যে তোমার গাল ছুটি টুকটুকু করছে, রঙ্গিনী, সে কোন রঙে । আর ঐ-যে তোমার ভুরুর ভঙ্গিম, ধার করেছ কোন বিদেশী অমাবস্তার কাজললতা থেকে । এটা তো সাত জন্মে তাসের দেশের শাস্তরে লেখে না । তুমি কি ভাবে, এ কারো চোখে পড়ে না । চিড়েতনী । মরে যাই । আর, তুমি যে তোমার ঐ সখীটিকে নিয়ে বকুলতলায় বসে দিনরাত কানে কানে ফিসফিস করছ, এটাই কি তাসের দেশের শাস্ত্রে লেখে নাকি । ও দিকে যে গোলাম বেচারা তার জুড়ি পায় না, মরে হায় হায় ক’রে । ইস্কাবনী । আহা, গুরুঠাকরুন, উপদেশ দিতে হবে না। চুলে যে রাঙা ফিভেট জড়িয়েছ ঐ ফিতে দিয়ে তাসের দেশের আচার বিচার গলায় দড়ি দিয়ে মরবে। এতবড়ো বেহায়াগিরি তাসরমণী হয়ে । চি ড়েতনী । তা, হয়েছে কী । আমি ভয় করি নে কাউকে, তোমাদের মতো লুকোচুরি আমার স্বভাব নয়। ঐ-যে তোমাদের দহলানী সেদিন আমাকে মানবী ব’লে টিটুকারি দিতে এসেছিল, আমি তাকে পষ্ট জবাব দিয়েছি, তোমাদের তাসিনী হয়ে মরে থাকার চেয়ে মানবী হতে পারলে বেঁচে যেভূম । ইস্কাবনী । অত গুমোর কোরো না গো, কোরো না । জানো, তোমাকে জাতে ঠেলবে ব’লে কথা উঠেছে ? চি ড়েতনী । তাসের জাত তো, আমি তা নিজের হাতে জলাঞ্জলি দিয়েছি, অামাকে ভয় দেখাবে কিসে । ইস্কাবনী । সর্বনাশ । এমন ধাষ্টমির কথা তো সাত জন্মে শুনি নি। উনি ঢাক পিটিয়ে মানবী হতে চলেছেন । চল ভাই টেক্কারানী, কে কোথা থেকে দেখবে ওর সঙ্গে কথা কচিছ, আমাদের মৃদ্ধ মজাবে । প্রস্থান &O