পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রুইতন । আশ্চর্য করলে । চুল বাধা ! এ বিষ্ঠে কে শেখালে । হরতনী । কেউ না । ঐ দেখো-না, এবার হঠাৎ শুকনো ঝরনায় নামল বর্ষ। জলের ধারায় ধারায় শুরু হল বেণীবন্ধন । এ বিদ্যা কে শেখাল তাকে । চলো আমার সঙ্গে, ছক্কা-পঞ্জার গান শুনিয়ে দিই তোমাকে । প্রস্থান বিবিদের প্রবেশ নাচ ও গান বিবিরা । অজানা সুর কে দিয়ে যায় কানে কানে, ভাবনা আমার যায় ভেসে যায় গানে গানে । বিস্মৃত জন্মের ছায়ালোকে হারিয়ে-যাওয়া বীণার শোকে ফাগুন-হাওয়ায় কেঁদে ফিরে পথহারা রাগিণী । কোন বসস্তের মিলন রাতে তারার পানে ভাবনা অামার যায় ভেসে যায় গানে গানে ॥ প্রস্থান রুইতন-হরতনীর পুনঃপ্রবেশ রুইতন । দোষ দেব কাকে । আমারই গাইতে ইচ্ছা করছে । হরতনী । দেখো, সম্পাদক যেন শুনতে না পায়, স্তম্ভে চড়াবে। সে দেখলুম ঘুরে বেড়াচ্ছে এই বনের খবর নিতে । রুইতন। দেখে হরতনী, ভয় কিন্তু আমার গেছে ঘুচে, কেন কী জানি। একটাকিছু হুকুম করে, তোমার জন্তে তুঃসাধ্য কিছু-একটা করতে চাই । হরতনী । আর যাই কর, গান গেয়ে না । বনে জবা ফুটেছে, তুলে এনে দাও । ফুলের রস দিয়ে রাঙাব পায়ের তলা । রুইতন । দেখো মুন্দরী, আজ সকালে উঠেই বুঝেছি, আমাদের এই তাসজন্মটা স্বল্প । সেটা হঠাৎ ভাঙল । আমাদের আর-এক জন্ম বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে । তারই বাণী আসছে মুখে, তারই গান শুনছি কানে। ঐ শোনে, ঐ শোনো, আমার সেই যুগের রচিত গান আকাশ থেকে ঐ কে বয়ে আনছে। ●