পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গান তোমার পায়ের তলায় যেন গো রঙ লাগে, আমার মনের বনের ফুলের রাঙা রাগে । যেন আমার গানের তানে তোমায় ভূষণ পরাই কানে, যেন রক্তমণির হার গেথে দিই প্রাণের অনুরাগে ॥ হরতনী । এ গান কোনোদিন তুমিই বেঁধেছিলে, আর আমারই জন্তে ? কেমন করে বাধলে । রুইতন । যেমন করে তুমি বাধলে বেণী । হরতনী । আচ্ছা, মনে কি আসছে, তোমার গানে আমি নেচেছিলুম কোনো-একটা যুগে । রুইতন । মনে আসছে, আসছে। এতদিন ভুলে ছিলুম কী করে তাই ভাবি । গান উতল হাওয়া লাগল আমার গানের তরণীতে । দোলা লাগে, দোলা লাগে তোমার চঞ্চল ওই নাচের লহরীতে । যদি কাটে রশি, যদি হাল পড়ে খসি, যদি ঢেউ উঠে উচছুসি, সম্মুখেতে মরণ যদি জাগে— করি নে ভয়— নেবই তারে, নেবই তারে জিতে ॥ রুইতন । দেখে হরতনী, মন ছট্‌ফটিয়ে উঠেছে যমরাজের সঙ্গে পাল্লা দিতে । আমি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি ছবি, তুমি পরিয়ে দিলে আমার কপালে জয়তিলক, আমি বেরোলুম বন্দিনীকে উদ্ধার করতে, বন্ধ দুর্গের দ্বারে বাজালুম আমার ভেরী । কানে আসছে বিদায়কালে যে গান তুমি গেয়েছিলে । স্ব ১২৫ VLO