পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গান বিজয়মালা এনে এনে আমার লাগি । দীর্ঘ রাত্রি রইব আমি জাগি । চরণ যখন পড়বে তোমার মরণ-কুলে বুকের মধ্যে উঠবে আমার পরান তুলে, সব যদি যায় হব তোমার সর্বনাশের ভাগী ॥ হরতনী । চলো চলো, বীর, মরণ পণ করে বেরিয়ে পড়ি দুজনে মিলে । দেখতে পাচ্ছি যে, সামনে কী যেন কালো পাথরের ভ্রাকুটি, ভেঙে চুরমার করতে হবে । ভেঙে মাথায় যদি পড়ে পড়ুক । পথ কাটতে হবে পাহাড়ের বুক ফাটিয়ে দিয়ে। কী করতে এসেছি এখানে । ছি ছি, কেন অাছি এখানে । এ কী অর্থহীন দিন, কী প্রাণহীন রাত্রি । কী ব্যর্থতার আবর্তন মুহুর্তে মুহুর্তে ! রুইতন । সাহস আছে তোমার সুন্দরী ? হরতনী । অাছে, অাছে । রুইতন । অজানাকে ভয় করবে না ? হরতনী । না, করব না । রুইতন । প। যাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে, পথ ফুরোতে চাইবে না । হরতনী । কোন যুগে আমরা চলেছিলুম সেই দুর্গমে । রাত্রে ধরেছি মশাল তোমার সামনে, দিনে বয়েছি জয়ধ্বজা তোমার আগে আগে । আজ আর-একবার উঠে দাড়াও, ভাঙতে হবে এখানে এই অলসের বেড়া, এই নিজীবের গণ্ডি, ঠেলে ফেলতে হবে এই-সব । নিরর্থকের আবর্জন । রুইতন । ছিড়ে ফেলো আবরণ, টুকরো টুকরো ক’রে ছিড়ে ফেলো । মুক্ত হও, শুদ্ধ হও, পুর্ণ হও । Nةing tعی ছক্কা-পঞ্জার প্রবেশ ছক্কা । ওহে ~ঞ্চা, কী হল বলো দেখি । পঞ্জা । ভারি লজ হচ্ছে নিজের দিকে তাকিয়ে । মূঢ় মূঢ় । কী করছিলি এতদিন । ছক্কা । এতদিন পরে কেন মনে প্রশ্ন জাগছে, এ-সমস্তর অর্থ কী । W28