পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্জা । ঐ-যে দহলাপণ্ডিত আসছেন, ওঁকে জিজ্ঞাসা করি । দহলার প্রবেশ ছক্কা । এতকাল যে-সব ওঠাপড়া-শোওয়াবসার কোট্‌কেনা নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলুম তার অর্থ কী । দহলা । চুপ । ছক-পঞ্জা । ( উভয়ে ) করব না চুপ। দহলা । ভয় নেই ? ছক্কা-পঞ্জা । ( উভয়ে ) নেই ভয়, বলতে হবে অর্থ কী । দহলা । অর্থ নেই— নিয়ম । ছক্কা । নিয়ম যদি নাই মানি ? দহলা । অধঃপাতে যাবে । ছক্কা । যাব সেই অধঃপাতেই । দহলা । কী করতে । পঞ্জা । সেখানে যদি আগৌরব থাকে তার সঙ্গে লড়াই করতে । দহলা । এ কেমন গোয়ারের কথা শাস্তিপ্রিয় দেশে ! পঞ্জা । শাস্তিভঙ্গ করব, পণ করেছি । হরতনীর প্রবেশ । দহল । শুনছ, শ্রীমতী হরতনী ? এরা শাস্তি ভাঙতে চায় আমাদের এই অতলস্পর্শ প্রশাস্তমহাসাগরের ধারে । হরতনী । আমাদের শাস্তিট। বুড়ো গাছের মতো । পোকা লেগেছে ভিতরে ভিতরে – সেটা নিজাব, তাকে কেটে ফেল। চাই । দহলা । ছিছিছি ছি, এমন কথা তোমার মুখে বেরোল । তুমি নারী, রক্ষা করবে শাস্তি ; আমরা পুরুষ, রক্ষা করব কৃষ্টি । হরতনী । অনেক দিন তোমরা আমাদের ভুলিয়েছ পণ্ডিত । আর নয়, তোমাদের শাস্তিরসে হিম হয়ে জমে গেছে আমাদের রক্ত, আর ভুলিয়ে না । দহলা । সর্বনাশ । কার কাছ থেকে পেলে এ-সব কথা । হরতনী । মনে মনে তাকেই তো ডাকছি। আকাশে শুনতে পাচ্ছি তারই গান ।