পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনি যে লম্ফ লাগিয়েছেন তাসের দেশময় । তাসিনীদের বুকে আগুন লাগিয়ে বেড়াচ্ছেন । ইস্কাবনী। সাগরপারের মানুষরা বলছে, তিনিই নাকি ওদের পূর্বপুরুষ । দহলানী । হতে পারে— ওরা লাফ-মারা বংশেরই সস্তান । টেক্কানী । আচ্ছ, সত্যি কথা বলে দিদি— ভিতরে ভিতরে তোমারও মন চঞ্চল হয়েছে ? না, চুপ করে থাকলে চলবে না । দহলানী । কাউকে বলে দিবি নে তো ? টেক্কানী । তোমার গা ছুঁয়ে বলছি, কাউকে বলব না । দহলানী । কাল ভোর-রাত্তিরের-ঘুমে স্বপ্ন দেখলুম, হঠাৎ মানুষ হয়ে গেছি, নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছি ঠিক ওদেরই মতো । জেগে উঠে লজ্জায় মরি আর-কি। কিন্তু— টেক্কানী । কিন্তু কী । দহলানী । সে কথা থাক্ গে। ইস্কাবনী । বুঝেছি বুঝেছি, দিনের বেলাকার বাধা পাখি খোলা পেয়েছিল স্বপ্নে । দহলানী । চুপ চুপ চুপ, নহলাপণ্ডিত শুনলে স্বপ্নেরও প্রায়শ্চিত্ত লাগিয়ে দেবে। ওটা পাপ যে । কিন্তু, স্বপ্নে কী ফুর্তি ! টেকানী । যা বলিস ভাই, তাসের দেশে সাগরপারের হাওয়া দিয়েছে খুব জোরে । কিছু যেন ধরে রাখতে পারছি নে, সব দিচ্ছে উড়িয়ে । দহলানী । তা হোক, এখনো কিন্তু কিছু উড়ল, কিছু রইল বাকি । মাথার ঘোমটা যদি-বা খসল, পায়ের বাক-মল তো সোজা করতে পারল না । ইস্কাবনী । সত্যি বলেছিস, মনটা সমুদ্রের এপারে-ওপারে দোলাহুলি করছে। ঐ দেখ-ন, চি ড়েতনীর মানুষ হবার অসহ শখ, পারে না, তাই মামুষের মুখোস পরেছে— সেটা তাসমহলেরই কারখানাঘরে তৈরি। কী অস্তুত দেখতে হয়েছে। দহলানী । আমাদের কাকে কিরকম দেখতে হয়েছে নিজেরা বুঝতেই পারি নে। গাছের আড়াল থেকে কাল শুনলুম, সদাগরের পুত্তর বলছিল, এরা যে মানুষের সঙ সাজছে । টেক্কানী। ওমা, কী লজ্জা ! রাজপুত্তর কী বললেন । দহলানী । তিনি রেগে উঠে বললেন, সে তো ভালোই— সাজের ভিতর দিয়ে রুচি দেখা দিল । তিনি বললেন, এ দেখে হেসো না, হাসতে চাও তো যাও তাদের কাছে মামুষের মধ্যে যারা তাসের সঙ সেজে বেড়ায় । \ea