পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইস্কাবনী । ওমা, তাও কি ঘটে নাকি । মানুষ হয়ে তাসের নকল । আচ্ছ, কী করে তারা । দহলানী। রাজপুত্তর বলছিলেন, তারা রঙের কাঠি বুলোয় ঠোটে, কালে বাতি দিয়ে অঁাকে ভুরু, আরো কত কী, আমাদের রঙ-করা তাসেদেরই মতো। সব চেয়ে মজার কথা, ওরা খুরওয়াল চামড়া লাগায় পায়ের তলায় । টেঙ্কানী । কেন । দহলানী । পদোন্নতি ঘটে, মাটিতে পা পড়ে না। এ সমস্তই তাসের ঢঙ— একে দেওয়া, সাজিয়ে দেওয়া কায়দা । ইস্কাবনী । এ তো দেখি পবনদেবের উল্টোপাল্টা খেল— তাসীরা হতে চায় রঙ খসিয়ে মানুষ, মানুষ চায় রঙ মেখে তাসী হতে । আমি কিন্তু ভাই ঠিক করেছি, মামুষের মস্তর নেব রাজপুত্তরের কাছে । টেক্কানী । আমিও । দহলানী । আমারও ইচ্ছে করে, কিন্তু ভয়ও করে । শুনেছি মানুষের দুঃখ ঢের, তাসের কোনো বালাই নেই । ইস্কাবনী । দুঃখের কথা বলছিস ভাই ? দুঃখ যে এখনি শুরু করেছে তার নৃত্য বুকের মধ্যে । টেক্কানী । কিন্তু সেই তুঃখের নেশা ছাড়তে চাই নে। থেকে থেকে চোখ জলে ভেসে যায়, কেন যে ভেবেই পাই নে । গান কেন নয়ন আপনি ভেসে যায় জলে, কেন মন কেন এমন করে— যেন সহসা কী কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে না গো, তবু মনে পড়ে। যেন কাহার বচন দিয়েছে বেদন, যেন কে ফিরে গিয়েছে অনাদরে— বাজে তারি অযতন প্রাণের পরে । যেন সহসা কী কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে না গো, তবু মনে পড়ে ॥