পাতা:তাসের দেশ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইস্কাবনী । পালাও পাঙ্গাও, সম্পাদক আসছে। কাগজে যদি রটে যায় তা হলে মুখ দেখাতে পারব না । দহলানী। ঐ-যে দলবল সবাই আসছে। বুড়োনিমতলায় আজ সভা বসবে। এখানে আর নয় । প্রস্থান রাজাসাহেব প্রভৃতির প্রবেশ রাজা । এ জায়গাটা কেমন ঠেকছে । ওটা কিসের গন্ধ । পঞ্জা । কদম্বের | রাজা । কদম্ব ! অদ্ভুত নাম । ওটা কী পাখি ডাকছে । পঞ্জা । শুনেছি, ওকে বলে ঘুঘু। রাজা । ঘুঘু তাসের ভাষায় ওকে একটা ভদ্র নাম দাও, বলো বিনতি । —আজি তে কাজ করা দায় হয়েছে । আজ আকাশে কথা শোনা যাচ্ছে, বাতাসে স্থর উঠেছে । অনেক কষ্টে মনকে শাস্ত রেখেছি । রানীবিবিকে তো ঘরে রাখা শক্ত হল, নেচে বেড়াচ্ছে ভূতে-পাওয়ার মতো । সভ্যগণ, তোমাদের আজ চেনা যায় না— সভার সাজ নেই, অত্যন্ত অসভ্যের মতো । সকলে । দোষ নেই । ঢিলে হয়ে গেল আমাদের সাজ, আপনি পড়ল খসে— সেগুলো রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে আছে । * রাজা । সম্পাদক, তোমারও যেন গাম্ভীর্যহানি হয়েছে বলে বোধ হচ্ছে । গোলাম । সকাল থেকে আছি বনে, পলাতকাদের নাম সংগ্রহ করার জন্যে । এখানকার হাওয়া লেগেছে । সম্পাদকীয় স্তম্ভ ভরাতে গিয়ে দেখি, লেখনী দিয়ে ছন্দ ঝরছে। শুনেছি, আধুনিক ডাক্তার এইরকম নিঃসারণকেই বলে ইনফুলুয়েঞ্জা । রাজা । কিরকম, একটা নমুনা দেখি । গোলাম । যে দেশে বায়ু না মানে বাধ্যতামূলক বিধি, সে দেশে দহলা তত্ত্বনিধি কেমনে করিবে রক্ষা কৃষ্টি— সে দেশে নিশ্চিত অনাস্থষ্টি ॥ ●●