পাতা:তিনসঙ্গী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ কথা জীবনের প্রবহমান ঘোলা রঙের হ-য-ব-র-ল'র মধ্যে হঠাৎ যেখানে গল্পটা আপন রূপ ধ'রে সদ্য দেখা দেয়, তার অনেক পূর্ব থেকেই নায়ক-নায়িকারা আপন পরিচয়ের সূত্র গেথে আসে। পিছন থেকে সেই প্রাকৃগাল্পিক ইতিহাসের ধারা অনুসরণ করতেই হয়। তাই কিছু সময় নেব, আমি যে কে সেই কথাটাকে পরিষ্কার করবার জন্তে । কিন্তু নাম ধাম ভাড়াতে হবে । নইলে জানাশোনা মহলের জবাবদিহি সামলাতে পারব না। কী নাম নেব তাই ভাবছি, রোম্যান্টিক নামকরণের দ্বারা গোড়া থেকেই গল্পটাকে বসন্তরাগে পঞ্চমমুরে বাধতে চাই নে। নবীনমাধব নামটা বোধ হয় চলে যেতে পারবে, ওর বাস্তবের শ্যামলা রঙটা ধুয়ে ফেলে করা যেতে পারত নবারুণ সেনগুপ্ত ; কিন্তু তা হলে খাটি শোনাত না, গল্পটা নামের বড়াই করে লোকের বিশ্বাস হারাত, লোকে মনে করত ধার-করা জামিয়ার পরে সাহিত্যসভায় বাবুয়ানা করতে এসেছে। আমি বাংলাদেশের বিপ্লবীদলের একজন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মহাকর্ষ-শক্তি আণ্ডামান-তীরের খুব কাছাকাছি টান মেরেছিল। নানা বাকা পথে সি. আই. ডি-র ফঁাস এড়িয়ে এড়িয়ে গিয়েছিলুম আফগানিস্থান পর্যন্ত । অবশেষে পৌঁচেছি আমেরিকায় খালাসীর কাজ নিয়ে। পূর্ববঙ্গীয় জেদ ছিল মজ্জায়, একদিনও ভুলি নি যে, ভারতবর্ষের হাতপায়ের শিকলে উখো ঘষতে হবে দিনরাত যতদিন বেঁচে থাকি। কিন্তু বিদেশে কিছুদিন থাকতেই একটা কথা নিশ্চিত বুঝেছিলুম, আমরা যে প্রণালীতে বিপ্লবের পালা শুরু করেছিলুম, সে যেন আতশবাজিতে পটকা ছোড়ার মতো, তাতে নিজের পোড়াকপাল পুড়িয়েছি অনেক বার, দাগ পড়ে নি ব্রিটিশ রাজতক্তে । আগুনের উপর পতঙ্গের অন্ধ আসক্তি। যখন সদৰ্পে কাপ দিয়ে পড়েছিলুম তখন বুঝতে পারি নি, সেটাতে ইতিহাসের যজ্ঞানল