হেরি বৈদেহীরে—রঘুরঞ্জন-রঞ্জিনী!
সাহসে সুরভি বায়ু, ত্যজি কুবলয়ে,
মুহুর্মুহুঃ অলকান্ত উড়াইয়া কামী
চুম্বিলা বদন-শশী! তা দেখি কৌতুকে
অন্তরীক্ষে মধু সহ মদন হাসিলা!—
এইরূপে ধীরে ধীরে চলিলা রূপসী।
আনন্দ-সাগরে মগ্ন দিতিসুত আজি
মহাবলী। দৈববলে দলি দেব-দলে—
বিমুখি অমরনাথে সম্মুখ-সমরে,
ভ্রমিতেছে দেববনে দৈত্যকুলপতি।
কে পারে আঁটিতে দোঁহে এ তিন ভুবনে?
লক্ষ লক্ষ রথ, রথী, পদাতিক, গল্প,
অশ্ব; শত শত নারী—বিশ্ব-বিনোদিনী,
সঙ্গে রঙ্গে করে কেলি নিকুম্ভ-নন্দন
জয়ী। কোন স্থলে নাচে বীণা বাজাইয়া
তরুমূলে বামাকুল, ব্রজবালা যথা
শুনি মুরলীয় ধ্বনি কদম্বের মূলে।
কোথায় গাইছে কেহ মধুর সুস্বরে।
কোথায় বা চর্ব্ব্য, চোষ্য, লেহ্য, পেয় রসে
ভাসে কেহ। কোথায় বা বীরমদে মাতি,
মল্ল সহ যুঝে মল্ল ক্ষিতি টলমলি।
বারণে বারণে রণ—মহা ভয়ঙ্কর,
কোন স্থলে। গিরিচূড়া কোথায় উপড়ি,
হুহুঙ্কারি নভস্তলে দানব উড়িছে
ঝড়ময়, উথলিয়া অম্বর-সাগর—
যথা উপলয়ে সিন্ধু দ্বন্দ্বি তিমিঙ্গিল
মীনরাজ—কোলাহলে পুরিয়া গগন।
কোথায় বা কেহ পশি বিমল সলিলে,
প্রমদা সহিত কেলি করে নানা মতে
উম্মদ মদন-শরে। কেহ বা কুটীরে