“কি আশ্চর্য্য! দেখ, ভাই,” কহিল শূরেন্দ্র
সুন্দ; “দেখ চাহি, ওই নিকুঞ্জ-মাঝারে।
উজ্জ্বল এ বন বুঝি দাবাগ্নিশিখাতে
আজি; কিম্বা ভগবতী আইলা আপনি
গৌরী! চল, যাই ত্বরা, পূজি পদযুগ!
দেবীর চরণ-পদ্ম-সদ্মে যে সৌরভ
বিরাজে, তাহাতে পূর্ণ আজি বনরাজী।”
মহাবেগে দুই ভাই ধাইলা সকাশে
বিবশ। অমনি মধু, মন্মথে সম্ভাষি,
মৃদু স্বরে ঋতুবর কহিলা সত্বরে;—
“হান তব ফুল-শর, ফুল-ধনু ধরি,
ধনুর্দ্ধর, যথা বনে নিষাদ, পাইলে
মৃগরাজে।” অন্তরীক্ষে থাকি রতিপতি,
শরবৃষ্টি করি, দোহে অস্থির করিলা
মেঘের আড়ালে পশি মেঘনাদ যথা
প্রহারয়ে সীতাকান্তু ঊর্মিলাবল্লতে।
জর জর ফুলশরে, উভয়ে ধরিলা
রূপসীরে। আচ্ছন্নিল গগন সহসা
জীমূত! শোণিতবিন্দু পড়িল চৌদিকে!
ঘোষিল নির্ঘোষে ঘন কালমেঘ দূরে;
কাপিলা বসুধা; দৈত্য-কুল-রাজলক্ষ্মী,
হায় রে, পুরিলা দেশ হাহাকার রবে।
কামমদে মত্ত এবে উপসুন্দাসুর
বলী, সুন্দাসুর পানে চাহিয়া কহিলা
রোষে; “কি কারণে তুমি স্পর্শ এ বামারে,
ভ্রাতৃবধূ তব, বীর?” সুন্দ উত্তরিলা—
“বরিনু কন্যায় আমি তোমার সম্মুখে
এখনি! আমার ভার্য্যা গুরুজন তব;
দেবর বামার তুমি; দেহ হাত ছাড়ি।”
যথা প্রজ্বলিত অগ্নি আহুতি পাইলে
পাতা:তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য - মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৯৬১).pdf/১০৫
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৪৮—৪৭৭
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য : চতুর্থ সর্গ
৮৩