চমকি ঢাকিলা আঁখি! রথ-চূড়া-শিরে
মলিনিল দেবকেতু, ধূমকেতু যেন
দিবাভাগে; যান-মুখে বিস্ময়ে মাতলি
সূতেশ্বর অন্ধভাবে রশ্মি দিলা ছাড়ি
হীনবল; মহাতঙ্কে তুরঙ্গম-দল
মন্দগতি, যথা বহে প্রতীপ গমনে
প্রবাহ। আইল এবে রথ ব্রহ্মলোকে।
মেরু,—কনক-মৃণাল কারণ-সলিলে;
তাহে শোভে ব্রহ্মলোক কনক-উৎপল;
তথা বিরাজেন ধাতা—পদতল যাঁর
মুমুক্ষু কুলের ধ্যেয়—মহামোক্ষধাম।
অদূরে হেরিলা এবে দেবেন্দ্র বাসব
কাঞ্চন-তোরণ, রাজ-তোরণ-আকার,
আভাময়; তাহে জ্বলে আদিত্য আকৃতি,
প্রতাপে আদিত্যে জিনি, রতননিকর।
নর-চক্ষু কভু নাহি হেরিয়াছে যাহা,
কেমনে নররসনা বর্ণিবে তাহারে—
অতুল ভব-মণ্ডলে? তোরণ-সম্মুখে
দেখিলা দেবদম্পতী দেবসৈন্য-দল,—
সমুদ্র-তরঙ্গ যথা, যবে জলনিধি
উথলেন কোলাহলি পবন-মিলনে
বীরদর্পে; কিম্বা যথা সাগরের তীরে
বালিবৃন্দ, কিম্বা যথা গগনমণ্ডলে
নক্ষত্র-চয়—অগণ্য। রথ কোটি কোটি
স্বর্ণচক্র, অগ্নিময়, রিপুভস্মকারী,
বিদ্যুত-গঠিত-ধ্বজ-মণ্ডিত; তুরগ—
বিরাজেন সদাগতি যার পদতলে
সদা, শুভ্র-কলেবর, হিমানী-আবৃত
গিরি যথা, স্কন্ধে কেশরাবলীর শোভা—
ক্ষীরসিন্ধু-ফেনা যেন—অতি মনোহর।
পাতা:তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য - মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৯৬১).pdf/৫২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
মধুসূদন-গ্রন্থাবলী
১১৮—১৪৭