বিশেষত, কূট-যুদ্ধে দৈত্যদল রত।
পাইলে একাকী তোমা, হে উমাকুমার,
অবশ্য অন্যায়যুদ্ধ করিবে দানব
পাপাচার। বৃথা তুমি পড়িবে সঙ্কটে,
বীরবর! মোর বাণী শুন, দেবপতি
মহেন্দ্র; আদেশ মোরে, ধনজালে বেড়ি
বধি আমি—যথা ব্যাথ বধয়ে শার্দ্দুল,
আনায়-মাঝারে তারে আনিয়া কৌশলে—
এ দুষ্ট দনুজ দোঁহে! অবিদিত নহে,
বসুমতী সতী মম বসু-পূর্ণাগার[১],
যথা পঙ্কজিনী ধনী ধরয়ে যতনে
কেশর,—মদন[২] অর্থ। বিবিধ রতন—
তেজঃপুঞ্জ, নয়নরঞ্জন, রাশি রাশি,
দেহ আজ্ঞা, দেব, দান করি দানবেরে।
করি দান সুবর্ণ—উজ্জ্বল বর্ণ, সহ
রজত, সুশ্বেত যথা দেবী শ্বেতভুজা।
ধনলোভে উন্মত্ত উভয় দৈত্যপতি,
অবশ্য বিবাদ করি মরিবে অকালে—
মরিল যেমতি দ্বন্দ্বি, হায়, মন্দমতি!
সহ সুপ্রতীক ভ্রাতা লোভী বিভাবসু!”—
উত্তর করিলা তবে জলেশ বরুণ
পাশী;—“যা কহিলে সত্য, যক্ষকুলপতি,
অর্থে লোভ; লোভে পাপ; পাপ—নাশকারী
কিন্তু ধন কোথা এবে পাবে, ধনপতি?
কোথা সে বসুধা শ্যামা, সুবসুধারিণী
তোমার? ভুলিলে কি গো, আমরা সকলে
দীন, পত্রহীন তরু হিমানীতে যথা,
আজি! আর আছে কি গো সে সব বিভব?
আর কি—কি কাজ কিন্তু এ মিছা বিলাপে?
কহ, দেবকুলনিধি, কি বিধি তোমার?”
পাতা:তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য - মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৯৬১).pdf/৭৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬৮—২৯৭
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য : তৃতীয় সর্গ
৫৫