কামরূপী,—হে অগস্ত্য, তব অনুরোধে
অ্যাপি অচল! শত শত শৃঙ্গ শিরে,
বীর বীরভদ্র-শিরে জটাজূট যথা
বিকট; অশেষ দেহ শেষের যেমনি!
দ্রুতগতি শূন্যপথে দেবরথ, রথী,
মাতঙ্গ, তুরঙ্গ, যত চতুরঙ্গ-দল
আইলা, কঞ্চুক তেজঃপুঞ্জে উজ্জ্বলিয়া
চারি দিক্! কাম্য নামে নিবিড় কানন—
খাণ্ডব-সম, (পাণ্ডব ফাল্গুনির গুণে
দহি হবির্ব্বহ যাহে নীরোগী হইলা)—
সে কাননে দেবসেনা প্রবেশিলা বলে
প্রবল। আতঙ্কে পশু, বিহঙ্গম আদি
আশু পলাইল সবে ঘোরতর রবে,
যেন দাবানল আসি, গ্রাসিবার আশে
বনরাজী, প্রবেশিল সে গহন বনে!—
কাতারে কাতারে সেনা প্রবেশিল আসি
অরণ্যে, উপাড়ি তরু, উপাড়ি ব্রততী,
ঝড় যথা, কিম্বা করিযূথ, মত্ত মদে।
অধীর সত্রাসে ধীর বিদ্ধ্য মহীধর,
শীঘ্র আসি শচীকান্ত-নমুচিসূদন-
পদতলে নিবেদিল। কৃতাঞ্জলিপুটে—
“কি কারণে, দেবরাজ, কোন্ অপরাধে
অপরাধী তব পদে কিঙ্কর? কেমনে
এ অসহ ভার, প্রভু, সহিবে এ দাস?
পাঞ্চজন্য-নিনাদক প্রবঞ্চি বলিরে
বামনরূপে যেরূপ, হায়, পাঠাইল।
অতল পাতালে তারে, সেই রূপ বুঝি
ইচ্ছা তব, সুরনাথ, মজাইতে দাসে
রসাতলে!” উত্তরিলা হাসি দেবপতি
অসুরারি;—“যাও, বিন্ধ্য, চলি নিজ স্থানে