বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য - মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৯৬১).pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬৮—২৯৭
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য : চতুর্থ সর্গ
৭৭

মহা ভয়ে ভীতা দূতী চমকি চাহিলা
চারি দিকে। হেন কালে হাসি সকৌতুকে,
মধু সহ রতি-বঁধু আসি দেখা দিলা।
“কাহারে ডরাও তুমি, ভুবন-মোহিনি?”
(কহিলেন পুষ্পধনু) “এই দেখ আমি
বসন্ত-সামন্ত সহ আছি, সীমন্তিনি,
তব কাছে। দেখিছ যে বামা-মূর্ত্তি জলে,
তোমারি প্রতিমা, ধনি; ওই মধুধ্বনি,
তব ধ্বনি প্রতিধ্বনি শিখি নিনাদিছে!
ও রূপ-মাধুরী হেরি, নারী তুমি যদি
বিবশা এত, রূপসি, ভেবে দেখ মনে
পুরুষকুলের দশা! যাও ত্বরা করি;—
অদূরে পাইবে এবে দেবারি দানবে!”
ধীরে ধীরে পুনঃ ধনী মরালগামিনী
চলিলা কানন-পথে। কত স্বর্ণ-লতা
সাধিল ধরিয়া, আহা, রাঙা পা দুখানি,
থাকিতে তাদের সাথে; কত মহীরুহ,
মোহিত মদন-মদে, দিলা পুষ্পাঞ্জলি;
কত যে মিনতি স্তুতি করিল। কোকিল
কপোতীর সহ; কত গুণ্ গুণ্ করি
আরাধিল অলি-দল, কে পারে কহিতে?
আপনি ছায়া সুন্দরী—ভানুবিলাসিনী—
তরুমূলে, ফুল ফল ডালায় সাজায়ে,
দাঁড়াইলা—সখীভাবে বরিতে বামারে;
নীরবে চলিলা সাথে সাথে প্রতিধ্বনি;
কলরবে প্রবাহিণী—পর্ব্বত-দুহিতা—
সম্বোধিলা চন্দ্রাননে; বনচর যত
নাচিল হেরিয়া দূরে বন-শোভিনীরে,
যথা, রে দণ্ডক, তোর নিবিড় কাননে,
(কত যে তপস্যা তোর কে পারে বুঝিতে?)