এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চা-ক্ষেত্র।
২৮শে জুন বৃহস্পতিবার—বেড়াইতে গিয়া চা-ক্ষেত্র বিশেষ করিয়া দেখিলাম। চা-ক্ষেত্র গুলি দেখিলে বোধ হয়, পর্ব্বত-গাত্রে কে যেন হরিদ্বর্ণের মনোহর গালিচা বিস্তার করিয়া রাখিয়াছে। চা-আবাদ দ্বারা এ জেলার বিশেষ উপকার হইয়াছে; অনেক হিংস্র জন্তুর আবাসভূমি রমণীয় চা-ক্ষেত্রে পরিণত হইয়াছে। পার্ব্বত্য বিভাগে যথেষ্ট চা জন্মিয়া থাকে। ১৮৫৩ সালে গবর্ণমেণ্টকর্তৃক চা-আবাদের চেষ্টা হয়, এবং ১৮৫৬ সাল হইতে আবাদ আরম্ভ হইয়াছে। এখন অনেকগুলি চা-বাগান দেখিতে পাওয়া যায়। বঙ্গদেশবাসিগণও একত্র হইয়া চা-আবাদ করিতেছেন। চা-ব্যবসায়ে বিলক্ষণ লাভ আছে। কোন কোন চা-কোম্পানি শতকরা ৩০।৪০ টাকা পর্যন্ত ডিভিডেণ্ড দিতেছেন। দার্জ্জিলিঙ্গ জেলায় ১৮৪টী চা-ক্ষেত্র আছে এবং প্রায় ১৪ লক্ষ বিঘা জমিতে চা-আবাদ হয়। ১৮৯৩ সালে এই জেলায় ১,৩২,২৭০ মণ চা প্রস্তুত হইয়াছিল।