আঘাত সহ্য করিব; তাঁহাদের সমস্থানীয় হইবার বাসনা করা আমাদের অতীব ধৃষ্টতা। বামন হইয়া চাঁদ ধরিবার চেষ্টা কি লজ্জাকর নহে? কে কবে শুনিয়াছে যে, “পঙ্গু লঙ্ঘে তুঙ্গ শৃঙ্গ, নুলা ধরে অসি”? আমি অবিবেচক লোক নহি, সাহেবেরা আমাদিগকে তাঁহাদের স্থানে যাইতে দেন না বলিয়া দুঃখ প্রকাশ করিলাম না। মহেন্দ্র বাবুর পবলিক হলটী প্রায় প্রস্তুত হইয়াছে। ঘরটী মন্দ হইবে না। মহেন্দ্র বাবুর বাসা হইতে আমার বহুদিনের বন্ধু বাবু চন্দ্রকান্ত পাইনের সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলাম। তিনি স্বদেশ গমন করিয়াছিলেন, সম্প্রতি এখানে আসিয়াছেন। চন্দ্রকান্তও এখানকার এক জন প্রধান উকীল এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। আমাকে দেখিয়া তিনি কতই আহ্লাদ প্রকাশ করিলেন, তাঁহার হৃদয়-সম্ভূত সম্ভাষণে আমি মুগ্ধ হইলাম। বহুদিনের পর দুইটী বন্ধুর মিলন হইলে কতই হৃদয়ের কথা হয়; আমরা অনেকক্ষণ আনন্দে অতিবাহিত করিলাম। বৈকালে চন্দ্রকান্ত অনেকগুলি খেলানা ও মিষ্টান্ন লইয়া আমার বালকবালিকাদিগকে দেখিতে আসিলেন। রাত্রিতে তাঁহার বাসায় ষোড়শোপচারে উদর-দেবের পূজা হইল।
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/১০৪
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দার্জ্জিলিঙ্গবাসী বাঙ্গালী ভদ্রলোক।
৯৩