আপনাদের নিকট হইতে বিদায় গ্রহণ করিয়া গত ১৩ই জুন বুধবারের দিন অপরাহ্ণ ৬॥০ ঘটিকার সময়ে বগুলা ষ্টেশনে দার্জ্জিলিঙ্গ-মেল গাড়ী আরোহণ করিয়াছিলাম। একখানি দ্বিতীয় শ্রেণীর গাড়ীতে আমি স্ত্রী, পুত্ত্র, কন্যাদি লইয়া প্রবেশ করি। ঐ গাড়ীতে অন্য লোক উঠে নাই, তজ্জন্য পদ্মা নদীর তীরবর্ত্তী দামুকদিয়া ঘাট পর্য্যন্ত বিনা কষ্টে আগমন করিলাম। দামুকদিয়া পর্য্যন্ত রেলপথ “ব্রড গেজে” (Broad guage) নির্ম্মিত। গাড়ীগুলি বড় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, বেশী লোক সমাগম না হইলে আরোহীদের আদৌ কষ্ট হয় না। দামুকদিয়া ঘাটে ষ্টীমারে উঠিয়া প্রবল পদ্মা নদীর উত্তরপারস্থিত সারা ঘাটে উপনীত ইইলাম। সারা হইতে শিলিগুড়ি পর্য্যন্ত রেলপথ ‘মিটর’ গেজে নির্ম্মিত। এই পথের দৈর্ঘ্য ১৯৬ মাইল। গাড়ীগুলি মাঝারি রকমের। চারিজন ব্যক্তি স্বচ্ছন্দে একটী কামরায় যাইতে পারে, কিন্তু কামরার শিরোভাগে লিখিত আছে, “আট জন লোক বসিতে হইবে”। আমরা স্ত্রী পুরুষ দুই জন, একটী বড় কন্যা, চারিটী ছোট বালক বালিকা ও দুই জন ঝি, একুনে নয় জন একটা কামরায় প্রবেশ করিলাম।
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/১৩
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।