বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

চাকর, ব্রাহ্মণ, তৃতীয় শ্রেণীর গাড়ীতে উঠিল। অতিকষ্টে শিলিগুড়ি পৌঁছিলাম। শিলিগুড়ি, উত্তর-বঙ্গ-রেলওয়ে লাইনের সীমান্ত ষ্টেশন। জলপাইগুড়ি ষ্টেশন ছাড়িয়াই দূরে হিমালয় পর্বতশ্রেণী নয়ন-গোচর হইয়াছিল সত্য; কিন্তু তখন পর্ব্বত বলিয়া উপলব্ধি করিতে পারি নাই, কৃষ্ণবর্ণ মেঘমালা বলিয়াই ভ্রম হইয়াছিল। দুগ্ধপোষ্য বালক বালিকা সঙ্গে লইয়া বিদেশ-ভ্রমণ অতীব কষ্টকর। ১৪ই জুন শিলিগুড়িতেই অতিবাহিত করিলাম। তথায় একটী সুন্দর কাষ্ঠ-নির্ম্মিত ডাক-বাঙ্গলা আছে। উহা ষ্টেশনের অতি নিকটে এবং বাসের অনুপযুক্ত স্থান নহে। থাকিবার স্থান পাইলাম বটে, কিন্তু আহারাদির বড়ই কষ্ট হইল। একটী কদর্য্য দোকান-ঘরে, ব্রাহ্মণটী ‘ডাইল ও ভাত’ পাক করিয়া আনিয়া দিল। প্রজ্বলিত উদর-দেবকে তদ্দ্বারা বহু আরাধনায় শান্ত করিলাম। পর দিবস অতি প্রত্যূষে একটী বন্ধু অন্ন ব‍্যঞ্জনাদি আনিয়া দিলেন, কিন্তু তখন অসময় বলিয়া আহার করিতে পারিলাম না। এখান হইতে প্রাতে নয়টার সময় গাড়ী ছাড়ে, কিন্তু সে দিবস গাড়ীর এঞ্জিন্ পথিমধ্যে অকর্ম্মণ্য হইয়াছিল বলিয়া, দশটার