বীতে আর দ্বিতীয় নাই। সুকনা পরিত্যাগ করিয়া ক্রমে নিবিড় বনে প্রবেশ করিলাম। দুই পার্শ্বে বৃহদাকার বৃক্ষ সকল গগন ভেদ করিয়া সগর্ব্বে দণ্ডায়মান রহিয়াছে। সাল, শিশু, শিমুল, চাম্পা, বুক, মৌহা প্রভৃতি পরিচিত, ও চিলানী, পানী, সাজ, টাট্রী, সিদা, গুগ্গুল-ধূপ, লালী, লাম্পাতিয়া প্রভৃতি বহুবিধ অপরিচিত বৃক্ষ নয়ন-পথে পতিত হইল। মধ্যে মধ্যে, সুমিষ্ট-ফল-প্রসূ কদলী বৃক্ষ ও শুভ্র এবং লোহিত পত্র-বিশিষ্ট পাদপ-শ্রেণী বনের শোভা বৃদ্ধি করিতেছে। পর্ব্বতের নিম্নভাগে নানাপ্রকার বন্য ও হিংস্র জন্তু বাস করে। হস্তী যূথে যূথে বিচরণ করে। ইতিমধ্যে এক দিন সুকনা ষ্টেশনের নিকটবর্ত্তী বন হইতে কয়েকটী হস্তী রেলপথের উপরে দণ্ডায়মান হইয়া শকট-গমনে বাধা দিয়াছিল। এখানে বড় ব্যাঘ্র, চিতা ও নেকড়িয়া ব্যাঘ্র, গণ্ডার, ভল্লূক, বন্যশূকর, কস্তূরী-মৃগ, কৃষ্ণসার বা সামর প্রভৃতি জন্তুরও অভাব নাই। গৌরী গাভী নাম্নী একপ্রকার গাভী ‘তরাই’ বিভাগে দেখিতে পাওয়া যায়, তাহারা সুযোগ পাইলে মানুষের প্রাণ নাশ করে। কিয়দ্দূর উপরে উঠিলে দেখিবেন যে, নীল-গাভী, শ্রীগাভী, চামুরী গাভী
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/১৭
অবয়ব
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৬
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।