এবং নানাবিধ বৃহদাকার ও ভয়ঙ্কর, বৃষভ পালে পালে বিচরণ করিতেছে। অল্প পথ গিয়াই পর্ব্বতে উঠিতে আরম্ভ করিলাম। পর্ব্বতের পার্শ্ব দিয়া, ঘুরিয়া ফিরিয়া, আঁকা বাঁকা হইয়া, এক শৃঙ্গ ছাড়িয়া অপর শৃঙ্গ বেষ্টন করত, রেলপথ উর্দ্ধাভিমুখে গমন করিয়াছে। কি অপূর্ব্ব দৃশ্য! কি অত্যাশ্চর্য্য মনুষ্যের শিল্প-কৌশল! লৌহ-বর্ত্মটী পর্ব্বতের মেখলাসদৃশ শোভা পাইতেছে। পর্ব্বত-শৃঙ্গের কটিদেশ বেষ্টন করিয়া, বাষ্পীয় শকট হেলিয়া দুলিয়া চলিতে আরম্ভ করিল। কখন অগ্রবর্ত্তী, কখন পশ্চাৎপদ হইতে লাগিল। কিন্তু কি নিপুণতা! কি অদ্ভুত শকট-চালনা! ক্রমেই আমরা পর্ব্বত-শৃঙ্গের উচ্চতর দেশে আরোহণ করিলাম। কখন বুক্র, কখন চক্রাকার, কখন ঋজুভাবে শকট চলিতেছে। এক এক বার গাড়ী এরূপভাবে ঘুরিয়া চলিল যে, হঠাৎ মনে হইল, এঞ্জিন্খানি বুঝি ‘ব্রেকভানে’ উৎপতিত হইবে। রেলপথের এক পার্শ্বে অত্যুচ্চ পর্ব্বতমালা, অপর পার্শ্বে অতল গিরি-গহ্বর। গহ্বরের দিকে দৃষ্টি করিলে মস্তক বিঘূর্ণিত হয়। আশঙ্কা হয়, অনতিবিলম্বে বাষ্পীয় শকট তন্মধ্যে পতিত হইয়া চূর্ণ বিচূর্ণ হইবে। পর্ব্বতের
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/১৮
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।
৭