বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

দিকে দৃষ্টি করিলে ভয় হয় যে, প্রকাণ্ড শিলাখণ্ড নিপতিত হইয়া, শকট ও শকটারোহী সকলকেই ধূলিসাৎ করিবে। কিন্তু ধন্য মনুষ্যের বুদ্ধি-বল! ধন্য মনুষ্যের নির্ম্মাণ-কৌশল! এই, অগম্য ও অত্যুচ্চ পর্ব্বতমালার উপর দিয়া শকটাবলী অনায়াসে গমন করিতে লাগিল, কোনও বিঘ্ন ঘটিল না। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য দেখিতে দেখিতে ক্রমে মন হইতে ভয় দূরীভূত হইল। পর্ব্বতশৃঙ্গের প্রাকৃতিক গঠনের পারিপাট্য দেখিয়া বিমুগ্ধ হইলাম, পাদপ-শ্রেণীর ও লতা গুল্মাদির শোভা দেখিয়া অবাক্ হইলাম। নির্ঝর-জল-পতনের সুমধুর কল কল ধ্বনি, শ্রবণ-কুহরে প্রবেশ করিয়া হৃদয়কে পরিতৃপ্ত করিল। হৃদয় উল্লাসে বলিয়া উঠিল, কি বিশ্ব-উন্মাদকারী অতুল সৌন্দর্য্য! কি জগৎ-সম্মোহন অপার মহিমা! কি অনির্বচনীয় ও অচিন্ত্য রচনা! এই পাষণ্ড হৃদয়ও ভক্তিরসে প্লাবিত হইল। ‘তিন-ধাড়িয়া’ ষ্টেশন অতিক্রম করিয়া, ‘পাগলা-ঝোরা’-নামক নির্ঝর দেখিতে পাইলাম। তথায় প্রবল বেগে পর্ব্বত বহিয়া জল পড়িতেছে। বর্ষাকালে এই স্থানে মধ্যে মধ্যে শিলাখণ্ড পতিত হইয়া গমনাগমনের ব্যাঘাত জন্মায়। ক্রমে গাড়ী করশিয়ং ষ্টেশনে