বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।
১১

উপায়ান্তর-বিহীন নরের অসাধ্য কিছুই নাই। পরে ক্রমে ঘুম পাহাড়ে উঠিলাম। ঘুম ষ্টেশন, দার্জ্জিলিঙ্গ হইতে প্রায় তিন শত ফিট্ উপরে। এখানে বিলক্ষণ শীত। দার্জ্জিলিঙ্গে যে জলের কল আছে, তাহার জল সোণাদহ ষ্টেশনের নিকটবর্ত্তী ঘুম পাহাড় হইতে নীত হয়। অপরাহ্ণ ৬০টার সময়ে আমরা দার্জ্জিলিঙ্গে পঁহুছিলাম। আমার কয়েকটী বন্ধু, আমার জন্য ষ্টেশনে অপেক্ষা করিতেছিলেন। ‘লোকনগর’-নামক স্থানে মহিষাদলের রাজা জ্যোতিঃপ্রসাদ গর্গরি মহাশয়ের একটী বাটী আছে, তথায় আমার বাসা স্থির হইয়াছিল। তন্য আমরা লোকনগরাভিমুখে যাত্রা করিলাম। সাত জন স্ত্রীলোক কুলি, আমাদের দ্রব্যাদি লইয়া চলিল। স্ত্রীলোক কুলিকে এখানে ‘নানী’ বলে। একজন ‘নানী’ দুই তিন মণ বোঝা অনায়াসে পৃষ্ঠে করিয়া লইয়া যায়। চুড়ির মত একটী সামগ্রী ইহাদের পৃষ্ঠে থাকে, তদ্দ্বারা ইহারা ভার বহন করে। ঐ জিনিসটীকে ‘ডোকো’ বলে। বুনানি করা চটার দ্বারা ডোকো কপালে আটকানভথাকে। এই বন্ধনীর নাম নামলো। ডোকো ও নামলো বংশনির্ম্মিত। বাঁশকে ইহারা মালিং বলে।