বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

বোঝা যতই ভারী হউক না কেন, তাহা কেবলমাত্র ঘাড়ের বলে পৃষ্ঠদেশে লম্বমান থাকে। ধন্য নানীদের ঘাড়! অনেক দূর নিম্নে গিয়া লোকনগর প্রাপ্ত হইলাম। গিন্নি বড়ই বিরক্ত হইলেন। অসন্তোষ প্রকাশপূর্বক বলিলেন, “তুমি কোথায় আনিলে? এ যে তরাই প্রদেশ। আবার কি আমরা শিলিগুড়িতে আসিলাম?” ছেলেরা ক্ষুধার জ্বালায় চীৎকার করিয়া উঠিল। মিষ্টান্ন আনিবার জন্য একটী লোক উপরে গিয়া দুই ঘণ্টা পরে ফিরিয়া আসিল। এই দুই ঘণ্টা কাল যেরূপ কষ্টে অতিবাহিত হইয়াছিল, তাহা অনায়াসে বুঝিতেছেন। চারিটী অবোধ শিশু ক্ষুধায় কাতুর হইয়া ক্রন্দন করিতেছিল; তন্মধ্যে দুইটী নিদ্রিত হইয়া পড়িল, অপর দুইটী অবসন্ন হইল। গিন্নি বলিলেন, “অদ্যই এখান হইতে স্থানাস্তরে চল, নতুবা কল্য আমরা স্বদেশে ফিরিয়া যাইব।” আমিও বুঝিলাম, লোকনগর বাটীতে বাস করিলে কষ্টের পরিসীমা থাকিবে না। লোকনগরের অবস্থা পূর্ব্বে জানিতে পারিলে প্রাণান্তেও তথায় যাইতাম না। সমস্ত রাত্রি মুষলধারায় বৃষ্টি হইল। পর দিবস প্রাতঃকালে বিছানা হইতে, উঠিয়াই, উপরে উঠিলাম।