তদ্দ্বারা গমনাগমন করেন। এখানে আর একটী প্রবাদ আছে যে, নেপালের ‘ফুন-সো-লামগে’ নামক এক রাজার রাজত্ব সময়ে এই স্থানে লামা-সরাই বা গুম্ফা নির্ম্মিত হয়। লামাগণ এই স্থানটীর ‘দার্জ্জিলিঙ্গ’ নাম প্রদান করেন। কেহ কেহ বলেন যে, দুৰ্জ্জয়লিঙ্গ শিবের নাম হইতেই দার্জ্জিলিঙ্গ নামের উৎপত্তি হইয়াছে। দার্জ্জিলিঙ্গ শব্দের বুৎপত্ত্যর্থ এই—দ = প্রস্তর, রজে = শ্রেষ্ঠ, লিঙ্গ = স্থান বা প্রদেশ, অর্থাৎ পবিত্র গুম্ফা বা লামাদিগের চিহ্নিত স্থান। দার্জ্জিলিঙ্গ শীতপ্রধান স্থান এবং অতীব স্বাস্থ্যকর। সুবিমল, বায়ুর লঘুতা এবং নির্ঝর-জলের পরিপাক-শক্তি-উত্তেজক গুণ থাকায় এখানকার অধিবাসিগণ প্রায়ই রোগশূন্য। কেবল গলগণ্ড-দেবের পরাক্রমের পরিচয় কোন কোন মনুষ্যের গলদেশে পাওয়া যায়। এই জেলাট পূর্বের শিকিমাধিপতির রাজ্যভুক্ত ছিল। গুরখা-নৃপমণি পৃথ্বীনারায়ণ অসাধারণ বাহুবলে নেপালাধিকার করিয়া চতুর্দ্দিকে স্বরাজ্য বিস্তার করেন। উত্তরে হিমালয়-প্রান্তে তিব্বত ও চীন রাজ্যের কিয়দংশ ও দক্ষিণে ত্রিহুত ও শারণ জেলা পর্য্যন্ত স্থান ক্রমে তাঁহার অধিকারস্থ হয়। শিকিমাধিপতি
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/২৬
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দার্জ্জিলিঙ্গের ঐতিহাসিক বৃত্তান্ত।
১৫