নগর হইতে প্রায় এক হাজার ফিট্ নিম্নে এবং ছয় মাইল দূরে। মেজর লয়েড সাহেবের পুত্ত্র মিষ্টার লয়েড সাহেব জেলখানার উপরে একটী বিস্তীর্ণ স্থান দিয়াছেন, তথায় আধুনিক উদ্যানটী প্রস্তুত করা হইয়াছে। এই স্থানটী দেখিলে আনন্দের সীমা থাকে না, মনে অপূর্ব্ব ভাবের উদয় হয়। নানাজাতীয় মনোহর পুষ্প প্রস্ফুটিত হইয়া উদ্যানটী আলোকিত করিয়াছে। ডালিয়া পুষ্পের সৌন্দর্য্যের সীমা নাই। পাপড়িগুলি গাঢ় রক্তিন, মধুচক্রের ন্যায় স্তরে স্তরে স্থাপিত। বৃন্ত হইতে ফুলগুলি স্থলপদ্মের ন্যায় ঈষৎ হেলিয়া পবন-হিল্লোলে দূলিতেছে; কতই সুন্দর দেখাইতেছে। ডালিয়া ফুল নানাজাতীয়। এক-জাতীয় ডালিয়ায় সাদা ফোঁটা দেওয়া, তাহা দেখিতে অধিকতর সুন্দর। নানাজাতীয় বৃক্ষ, বহুতর তরু-রুহ (Orchids) ও লতা গুল্মাদি, এবং সহস্রাধিক-প্রকারের গিরিকুন্তল (Fern) দৃষ্টি করিলাম। ইতিপূর্ব্বে যে সমস্ত বৃক্ষের নাম করিয়াছি, তদতিরিক্ত এলাচি, দারু-হরিদ্রা, মঞ্জিষ্ঠা, রবার-বৃক্ষ, বিলাতি সিডার, ফার, পাইন, লার্চ্চ, সাইপ্রেস প্রভৃতি বৃক্ষ দেখিতে পাইলাম। এ দেশে ‘দে’-নামক একরূপ ক্ষুদ্র বৃক্ষ আছে,
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৩৩
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।