তাহার ত্বকে কাগজ প্রস্তুত হয়। শিয়ালকাঁটার গাছের মত একরূপ গাছ আছে, তাহাকে ‘পণিয়া’ বলে, তাহা হইতে রেশমের ন্যায় সূত্র প্রস্তুত হয়। আনন্দিত-হৃদয়ে উদ্যানটী পরিভ্রমণ করিতে লাগিলাম। পুষ্পের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হইলাম, লতা-বৃক্ষাদির শোভা দৃষ্টে অবাক্ হইলাম, চক্ষু দিয়া প্রেমাশ্রু বিগলিত হইতে লাগিল। বালক বালিকাগণ সঙ্গে ছিল, তাহারা ফুল দেখিয়া আনন্দে নৃত্য করিতে লাগিল, নানাবর্ণের মৎস্য দেখিয়া করতালি দিয়া হাস্য করিতে লাগিল। একটী আড়াই বৎসর-বয়স্কা কন্যা আমার হাত ধরিয়া গদ্গদভাবে বন্দিল ‘বাবা, দার্জ্জিলিঙ্গ বেশ, আমি বাড়ী যাব না, এইখানেই থাকব’। শুক্র, শনি দুই দিনই সে ‘বাড়ী যাব’ কলিয়া বড়ই কাঁদিয়াছিল; উদ্যানের সৌন্দর্য্যে সেও মুগ্ধ হইল। কিন্তু এ আনন্দ আমরা অধিকক্ষণ উপভোগ করিতে পারিলাম না। নিদারুণ বিধাতা নির্দ্দয় হইয়া প্রবলবেগে বারি বর্ষণ করিতে লাগিলেন। সমস্ত উদ্যানটী পরিভ্রমণ করিতে, কি অবশ্য-জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি জানিতে পারিলাম না। বৃষ্টির দৌরাত্ম্যে বাসায় ফিরিয়া আসিয়া একাগ্রচিত্তে ‘খাণ্ডব-দাহনে’ প্রবৃত্ত হইলাম! সমস্ত রাত্রি বৃষ্টি হইল।
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৩৪
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বোটানিকেল গার্ডেন।
২৩