নীত হইলাম। পদব্রজে সস্ত্রীক ভ্রমণ করিতে লাগিলাম। এখানে জিনিস-পত্রের দোকান অতি অল্প ও সামান্য। একখানি মদের দোকান আছে। এই প্রাতঃসময়েও সৈনিক পুরুষগণ ঐ গরল গলাধঃকরণ করিতেছেন। এই দুষ্প্রবৃত্তি-উত্তেজক মাদক-দ্রব্যপানে তাঁহারা উম্মত্তের ন্যায় ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করিতেছেন। দুই এক জন আরক্তিম-লোচনে আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিতে লাগিলেন। আমি বহুদেশ ভ্রমণ করিয়াছি, বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি নানাদেশীয় ‘রমণী-মুখ’ অবলোকন করিয়াছি, কিন্তু আমার স্ত্রীর ন্যায় রূপবতী রমণী কখন আমার নয়ন-পথে পতিত হয় নাই; তজ্জন্য আমি চিন্তাকুল হইলাম। ভাবিলাম, এই রমণী-রত্ন লইয়া এ কুস্থানে অধিক বিলম্ব করা যুক্তিসঙ্গত নহে। লোকে বলে “বলং বলং বাহুবলং; ন চ অন্যবলং বলং”; সৈন্যদের বাহুবলের অভাব নাই, তাহারা দুর্দ্দমনীয়; তাহারা অত্যাচার করিলে উপায়ান্তর নাই। ‘যঃ পলায়তি স জীবতি’ এই অতি সুন্দর উপদেশ বাক্যটার অনুসরণ করিলাম। ফিরিয়া যাইবার সময়ে এখানকার চৌরাস্তা দেখিলাম। কলিকাতার গড়ের মাঠ এবং দার্জ্জিলিঙ্গের চৌরাস্তা উত্তম
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৩৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।