বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

নামও দেয়। কোচ জাতির ত কথাই নাই। রাজবংশী কোচেরা শিববংশীয় বলিয়া পরিচয় দেয়। তাহাদের মধ্যে একটী প্রবাদ আছে যে, কুচনীপাড়াতে হাতিয়ামেচ নামক এক ব্যক্তি বাস করিত। কোচাধিপতি হাজুর কন্যা হীরার সহিত তাহার বিবাহ হয়। হীরা পরম রূপবতী ছিল। মহাদেব তাহার রূপে মুগ্ধ হইয়া তাহাতে উপগত হন এবং হীরার গর্ভে তাঁহার ঔরসে দুই পুত্ত্র জন্মে, তন্মধ্যে এক জনের নাম বিশ্ব। কুচবেহারের রাজগণ এই বিশ্ব-রংগীয়। শিবের কুচনীপাড়ার কথা আমাদের দেশীয় লোকের মুখেও শুনিতে পাই, কিন্তু আমার বোধ হয় এ প্রবাদটা সত্যমূলক নহে। বিশ্ব কোচের পিতা এবং ত্রিকালজ্ঞ মহাযোগী মহাদেব একই ষ্যক্তি ছিলেন না। সম্ভবতঃ হীরা-হরণ-মানসে, কোন শৈব, আপনাকে শিব পরিচয় দিয়া, হীরা ও তাহার স্বামীকে ভুাইয়াছিলেন। যিনি কামনা-শূন্য হইয়া জন্ম মৃত্যু হইতে বিমুক্ত হন বলিয়া প্রবাদ; যাঁহাকে অনন্ত, আদ্যন্ত-মধ্য-রহিত, জ্ঞানানন্দ-স্বরূপ, কারণ-স্বরূপ ব্রহ্ম বলিয়া এককালে সমগ্র ভারত-বাসী অর্চ্চনা করিয়াছে; এরূপ ব্যক্তি যে সামান্য রমণী-রূপে বিমোহিত হইয়া তাহাতে উপগত