বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

যে, এ বিষয়ে আমার যতটুকু জ্ঞান আছে, তাঁহার জ্ঞান তদপেক্ষা বেশী নহে। এই ধর্ম্মের বীজমন্ত্র “ওম্ মাণি পদ্‌মে হুম” বাক্যের অর্থ কি, এই প্রশ্নের উত্তরে লামাটী বলিলেন—“রত্ন-শোভিত পদ্মাধিষ্ঠিত যে বুদ্ধ, তিনি আমার মঙ্গল করুন।” অধুনা আনি বেসান্ত ও কর্ণেল অল্‌কট্ থিওসফি নামক যে ধর্ম্ম প্রচার করেন তাহারও বীজমন্ত্র ঐ, কিন্তু অর্থ অন্যরূপ; তাঁহারা বলেন যে, ইহার অর্থ এই—“মণি (দুর্লভ বস্তু) পদ্‌মে (হৃদয়রূপ পদ্মে) হুম (অধিষ্ঠিত আছে।” লামাটীর নিকট হইতে আর অধিক কিছু জানিতে পারিলাম না। এখানে আসিয়া একটী নেপালী চাকর নিযুক্ত করিয়াছি, সে বাঙ্গলা ভাষা বলিতে ও বুঝিতে পারে। সে আমাদের পরস্পরের কথাবার্তা পরস্পরকে বুঝাইয়া দিল। পুরোহিত মহাশয়ের মুখ দিয়া মদের গন্ধ নির্গত হইতেছিল। পাহাড়ে ‘মাড়যো’ নামে একপ্রকার ফল জন্মে, ভুটিয়াগণ তদ্বারা ‘জাঁড’ নামক মদ প্রস্তুত করে, এবং স্ত্রী পুরুষ সকলেই তারা পান করে। জাঁডের গন্ধ লামার মুখ হইতে বাহির হইতেছিল।